বিদেশে কর্মী পাঠানোর আড়ালে শতকোটি টাকার অর্থ পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী কে আদালত গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। সোমবার (১১ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। এর মাধ্যমে চলমান মানিলন্ডারিং ও মানবপাচার সংক্রান্ত একাধিক মামলায় তার আইনি জটিলতা আরও গভীর হলো।
আদালত সূত্র জানায়, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে নতুন করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শুনানিকালে আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে। পরে আদালত তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩০ মে পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সরকারের নির্ধারিত ফি ছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা, কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী জনপ্রতি আদায় করা হয় প্রায় দেড় লাখ টাকা।
এর বাইরে পাসপোর্ট, মেডিক্যাল, কোভিড টেস্ট ও পোশাক বাবদ আরও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ৯ হাজার ৩৭২ জন কর্মীর কাছ থেকে জনপ্রতি ১ লাখ ৭ হাজার ৫১০ টাকা করে অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, মোট প্রায় ১০০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অবৈধভাবে আদায় ও স্থানান্তর করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, এসব অর্থ তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।
এর আগে গত ২৩ মার্চ রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর একাধিক মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। মানবপাচার ও অর্থ আত্মসাৎ সংক্রান্ত অভিযোগে বিভিন্ন ধাপে তদন্ত চলতে থাকে।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আগস্টে বনানী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে নতুন করে মামলা দায়ের করে সিআইডি। ওই মামলায় মোট ৩৩ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অর্থ লেনদেন, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, “এই ধরনের আর্থিক অপরাধ শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”