মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বালিগাঁও-ডহরি-তালতলা খালের ভাঙন রোধে ও চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃংখলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ্ ফারজানা ববি মিতু। সোমবার বেলা ১১টায় লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ্ ফারজানা ববি মিতু’র সভাপতিত্বে তাঁর অফিস কক্ষে এ সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নির্দেশে এ খালে বালুবাহি বাল্কহেডগুলো চলাচল বন্ধ ছিল। কিন্তু অতিসম্প্রতি কিছু অসাধু লোকজনের জোগসাজসে এ খাল দিয়ে বালুবাহি বাল্কহেড চলাচল করে। এতে খাল পাড়ে দু পাশের বাড়ি ঘর ভেঙে পড়ছে। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে এলাকাবসী। বাল্কহেড গুলো চলাচলে কিছু সংখ্যক লোক তাদের কাছে থেকে ব্যাপকহারে চাঁদা নিয়ে এগুলো চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছে। তাই কি করে এ চাঁদাবাজি ও বাল্কহেড বন্ধ রাখা যায় এ নিয়ে এ সভার আয়োজন করে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান, বিক্রমপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মাসুদ খান, লৌহজং উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু নাসের খান লিমন, লৌহজং প্রেসক্লাবের একাংশের সভাপতি মো. শওকত হোসেন, লৌহজং প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান ঝিলু, সাংবাদিক জাহিদ হাসান, নৌ পুলিশের মাওয়া ফাঁড়ির এসআই জাহাঙ্গীর আলম, বাল্কহেড মালিক সমিতির সভাপতি মো. ভুলু, বাল্কহেড লঞ্চ শ্রমিক এসোশিয়সনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, গাওদিয়া ইউপি বিএনপি’র সভাপতি শাহ আলম সিকদার, খিদির পাড়া বিএনপি সভাপতি আতিকুজ্জামন লাভলু প্রমূখ।
বক্তাগণ আরও বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র টোলঘরে টোল নেওয়া বন্ধ করতে হবে। নতুবা এই ঘরে টোল দিয়ে বাল্কহেডগুলো খালে চলাচলের চেষ্টা করবে। কোনভাবেই এ খাল দিয়ে বাল্কহেড চলাচল করতে দেয়া যাবেনা। সকলের বক্তব্য শোনার পর তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্তে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ্ ফারজানা ববি মিতু সভাকে জানান, আজ (সোমবার) হতে এ খালে বাল্কহেড বলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। বিআইডব্লিউটিএ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলে বাকি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তার পূর্বে কোন বাল্কহেড এ খাল দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেনা। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে।