রেমিট্যান্স প্রবাহে গতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১২ মে, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
রেমিট্যান্স প্রবাহে গতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। একই সঙ্গে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহেও বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, ১ জুলাই থেকে ৯ মে পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১১ মে) পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ২২৬ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ হাজার ৫৬৫ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আগের অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫ দশমিক ৪০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় এবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। শুধু মে মাসের প্রথম ৯ দিনেই দেশে এসেছে ১ দশমিক ০২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৮৬৪ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের প্রণোদনা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার সহজীকরণ এবং প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধির কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে মে মাসের শুরুতেই প্রবাসী আয় বাড়তে শুরু করেছে।

তথ্য অনুযায়ী, শুধু ৭ মে থেকে ৯ মে পর্যন্ত তিন দিনেই দেশে এসেছে ২৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় মেটানো এবং টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তবে তারা বলছেন, রিজার্ভ বাড়লেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, আমদানি ব্যয় এবং ঋণ পরিশোধের বিষয়গুলো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তাই রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখতে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সুযোগ আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করতে হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে