সিন্ডিকেট আর চাঁদাবাজিতেই বাজার অস্থির, অভিযোগ জামায়াত আমিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১২ মে, ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
সিন্ডিকেট আর চাঁদাবাজিতেই বাজার অস্থির, অভিযোগ জামায়াত আমিরের

নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতার জন্য মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজিকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী কাঁচাবাজার পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, কৃত্রিমভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের শাহ আলী পাইকারি ও কাঁচাবাজার ঘুরে দেখেন ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আগে থেকেই বাজার অস্থির ছিল, ইদানীং মনে হচ্ছে আরও বেশি অস্থির হয়ে উঠেছে।”

বাজার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দখলদারিত্ব ও নীরব চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, “এই আড়ত-মার্কেটে যারা স্বস্তিতে ব্যবসা করতে চায়, তারাও পারে না। এখানে নীরব চাঁদাবাজি আছে। কিন্তু কেউ মুখ খুলতে চায় না। কারা এসব করছে, তা সবাই জানে। আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ চাঁদাবাজি করে না।”

তিনি বলেন, কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, আবার ভোক্তারাও ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে পারছেন না। মাঝখানে একটি অসাধু চক্র লাভবান হচ্ছে। “মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আমরা এই চক্র ভাঙতে চাই,” বলেন তিনি।

সংসদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা। তার ভাষায়, “সংসদের ৩০০ সদস্য যদি ঠিক করে দেশে চাঁদাবাজি হবে না, তাহলে কেউ সাহস পাবে না। কিন্তু আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকলে এটা বন্ধ করা কঠিন।”

বাজার পরিদর্শনের সময় এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়া প্রতি বর্গফুটে ১৩ টাকা হলেও বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা দোকানগুলো তৃতীয় পক্ষের কাছে মাসে ১ থেকে দেড় লাখ টাকায় ভাড়া দিচ্ছেন। এতে ছোট ব্যবসায়ীরা চাপে পড়ছেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে আছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি বোঝার জন্য বিরোধী দল মাঠপর্যায়ে আরও বাজার পরিদর্শন করবে এবং সংসদের ভেতরে ও বাইরে এ নিয়ে সোচ্চার থাকবে।

তিনি বলেন, “আমাদের লড়াই শুরু হয়েছে। এই লড়াই চলবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করবো।”

বাজার পরিদর্শনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহফুজুর রহমানসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে