বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং নিয়ে হতাশ প্রধানমন্ত্রী, কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১২ মে, ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং নিয়ে হতাশ প্রধানমন্ত্রী, কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার ইঙ্গিত

বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পিছিয়ে থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান এখনও প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছতে পারেনি।”

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিংয়ে গবেষণা প্রকাশনা, সাইটেশন ও উদ্ভাবনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এ জায়গাগুলোতে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অগ্রগতি এখনো সীমিত। “বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা এবং উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে,” যোগ করেন তিনি।

উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হলেও অনেকেই চাকরি পাচ্ছেন না। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, “শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, দক্ষতা অর্জনও জরুরি। মুখস্তবিদ্যা এবং সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”

এ কারণেই প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পুরো কারিকুলাম নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি ও ডাটা সায়েন্সের মতো খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি না হলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে হবে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সামর্থ্য সীমাহীন না হলেও সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অবশ্যই নতুন কিছু করা সম্ভব।”

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নে ‘সিড ফান্ডিং’ ও ‘ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রমে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার আহ্বানও জানান তিনি। “শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর অ্যালামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড,” মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষাবিদরা।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাননীয়’ সম্বোধন না করার অনুরোধ জানাতেও দেখা যায়। প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, তাকে শুধু নাম ধরেই সম্বোধন করলেই যথেষ্ট।

বিশ্লেষকদের মতে, গবেষণা, দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার এই বার্তা দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে নতুন আলোচনা তৈরি করবে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে