রাজবাড়ীর পল্লী চিকিৎসক হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ৬ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১২ মে, ২০২৬, ০২:২১ পিএম
রাজবাড়ীর পল্লী চিকিৎসক হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ৬ জনের

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পল্লী চিকিৎসক রেজাউল করিম ওরফে আবু ডাক্তার হত্যা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ১ এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন বাবলু সরদার, টেকন সরদার ও গাজীয়ার সরকার। আর যাবজ্জীবন দণ্ড পেয়েছেন দেবগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলী, রায়হান সরদার, হাবিবুর রহমান ওরফে হবি সরদার, হেলাল খান, জিল্লুর রহমান ও জিয়া মণ্ডল। আদালত যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করেছেন।

একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১২ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শামসুদ্দিন জুম্মন এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল রশীদ মোল্ল্যা রায়ের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর গোয়ালন্দ থানার আতর আলী বাজার এলাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন চলাকালে সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলীর ছেলে যুবলীগ নেতা বাবলু সরদারের সঙ্গে দেবগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলামের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে আতর আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন সমর্থক বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেয়।

ওই সময় চেয়ারম্যানপন্থি লোকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে দিয়ে যাওয়ার সময় পল্লী চিকিৎসক আবু ডাক্তারকেও আটক করে মারধর করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে গোয়ালন্দ সরকারি হাসপাতালে এবং পরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর মোবারক মোল্লা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৫ অক্টোবর ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। মামলার বিচার চলাকালে ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

রায়ের সময় ১২ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত জিল্লুর রহমান ও জিয়া মণ্ডলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। পলাতক অন্য দণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

আইনজীবীরা বলছেন, দীর্ঘদিন আলোচিত এই মামলার রায়ে স্থানীয়ভাবে স্বস্তি ফিরতে পারে। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় আদালতের কঠোর অবস্থানও এ রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে