বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ইতোমধ্যেই ৪০০ ছাড়িয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু, বিশেষ করে পাঁচ বছরের নিচে বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বেশি। এ বাস্তবতা আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা ও টিকা কার্যক্রমের ঘাটতিকে স্পষ্ট করে তুলছে। হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। অথচ সামপ্রতিক সময়ে জাতীয় পর্যায়ে হাম-রুবেলা (গজ) টিকার ঘাটতি তৈরি হওয়ায় বিপুল সংখ্যক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এর ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অনেকেই অপুষ্টিতে ভুগছে, ভিটামিন এ ঘাটতি রয়েছে-যা মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে, যার লক্ষ্য প্রায় ১.২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা। ইউনিসেফ, ডঐঙ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাও সহায়তা করছে। তবে প্রশ্ন হলো কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো? কেন টিকা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিল? কেন সময়মতো পরিকল্পনা নেওয়া হলো না? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে একই সংকট আর না ঘটে। এখন করণীয় হলো দ্রুততম সময়ে সব শিশুদের টিকার আওতায় আনা। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে, যাতে তারা টিকা দেওয়ার গুরুত্ব বুঝতে পারেন। হাসপাতালগুলোতে আলাদা আইসোলেশন ইউনিট তৈরি, পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে হবে। আমরা মনে করি, হাম পরিস্থিতি এখন জাতীয় স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার পর্যায়ে পৌঁছেছে। ৪০০-এর বেশি মৃত্যু একটি ভয়াবহ সতর্কবার্তা। টিকা ঘাটতি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা দ্রুত সমাধান না করলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাই এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে টিকা কভারেজ, চিকিৎসা সুবিধা ও জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ। অথচ টিকা ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে শত শত শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। এটি কেবল স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যর্থতা নয়, বরং মানবিক দায়বদ্ধতারও প্রশ্ন। শিশুদের জীবন রক্ষায় সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এখনই সময়-টিকা কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে শিশুদের জীবন বাঁচানো।