দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মান নিয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত জাতীয় কর্মশালায় তিনি বলেন, শিক্ষার প্রসার ঘটলেও গুণগত মান এখনো বড় প্রশ্নের মুখে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপরেখা, টেকসই উন্নয়ন এবং মানোন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, শুধু প্রতিষ্ঠান বাড়ানো নয়, এখন সময় এসেছে মান যাচাইয়ের।
দেশে বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৭টি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১১৬টির বেশি হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “আমরা সংখ্যায় অনেক এগিয়েছি, কিন্তু মানের জায়গায় কতটা যেতে পেরেছি, তা আমরা নিজেরাই নিশ্চিত নই।”
তিনি আরও বলেন, আগে বিদেশি শিক্ষকরা বাংলাদেশে এসে পড়াতেন, বিদেশি শিক্ষার্থীরাও আসতেন। এখন সেই অবস্থান অনেকটাই হারিয়েছে। এ বাস্তবতা থেকেই শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সরকার নতুন কারিকুলাম ও আউটকামভিত্তিক শিক্ষার ওপর কাজ করছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন সময় এসেছে চাকরির বাজার ও বাস্তব জীবনের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে ‘নিড বেসিস এডুকেশন’ চালু করার।
তার মতে, শিক্ষা শুধু ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “শিক্ষাব্যবস্থাকে আবারও ঢেলে সাজাতে হবে, নইলে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরাও উচ্চশিক্ষার গুণগত মান, গবেষণা সক্ষমতা, শিল্প ও শিক্ষার সংযোগ এবং ডিজিটাল রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তাদের মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে টিকে থাকতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।