বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থে আবারও সুখবর দেখছে দেশের অর্থনীতি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১২ মে পর্যন্ত দেশে মোট ৩০ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩ হাজার ৯৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহ বেড়েছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ।
বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ১২ মে একদিনেই দেশে এসেছে ১৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। আর মে মাসের প্রথম ১২ দিনেই প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৬০ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
গত বছরের একই সময়ে মে মাসের প্রথম ১২ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৬ শতাংশে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১২ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৯৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৫৬৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সরকারের প্রণোদনা এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা বাড়ায় প্রবাসীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক পথে অর্থ পাঠানোর আগ্রহ বেড়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণের প্রভাবও রেমিট্যান্স প্রবাহে পড়ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের আমদানি ব্যয় সামাল দেওয়া, ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বড় সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। তারা বলছেন, বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সুবিধা আরও বাড়ানো গেলে বছরের শেষ দিকে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ডও তৈরি হতে পারে।