গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কাঁচা রস এলাকায় ৩ কোটি টাকার রাস্তা তৈরিতে ফসলি জমির টপসয়েল ও বনের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের প্যাকেজ-৯৪৪ জিডিপি -৩ এর আওতায় নির্মাণাধীন প্রায় ২.৫ কিলোমিটার রাস্তায়
মাটি ভড়াট করে বেড তৈরী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
কাঁচা রস এলাকার লোকজন জানায়, পাকা ধানী জমিতে ভেকু মেশিন দিয়ে ৪-৫ ফুট গভীর গর্ত করে মাটি কাটা হচ্ছে। কাটা মাটি ট্রাকে করে এনে রাস্তার বেড তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। সড়কের পাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জমির উপর দিয়ে রাস্তা বানিয়ে মাটিবাহী ট্রাক চলাচল করছে।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে জনৈক কৃষক জানান,
সরকারি বনের জমির কিছু অংশের গাছ কেটে গাড়ি দিয়ে জমির মাটি কেটে নিয়েছে। বাধা দিতে গেলে ঠিকাদারের লোকজন হুমকি দেয়।
এই জমিতেই ধান, সবজি আবাদ হতো এখন মাটি কেটে নেওয়ায় জমি নিচু হয়ে গেছে। বর্ষায় পানি জমে ফসল নষ্ট হবে। ১০ বছরেও এই জমি আগের মতো হবে না।
কৃষি জমির মালিক আব্দুস সালাম সরকার জানান,ফসল আবাদে আগের মতো লাভ নেই তাই আমার জমির মাটি ৪ টাকা ফুট হিসেবে বিক্রি করেছি।
প্রকল্প সূত্র জানায়, রাস্তাটি নির্মিত হলে কাঁচা রস, নয়াপাড়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে আরএফএল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ইন্জিনিয়ার রাসেল বলেন আমরা রাস্তা নির্মানের স্বার্থে স্থানীয় আব্দুস সালাম সরকারের নিকট থেকে মাটি ক্রয় করে নিয়েছি।তবে মটি বহন করতে ট্রাক চলাচলের রাস্তা তৈরি করতে কিছুটা ফরেষ্ট ল্যান্ড ব্যবহার করেছি।
কালিয়াকৈর উপজেলা প্রকৌশলী মাকসুদুন্নবী বলেন, প্রকল্পটি সরকারি প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত। সিডিউল অনুযায়ী কাজ করার কথা। কৃষি ও বনবিভাগের জমির ক্ষতি করার বিধান নেই। এমন কোন অভিযোগ পেলে সরেজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম ফখরুল হোসাইন বলেন, পরিবেশ ও কৃষি জমি রক্ষা করে এলাকার উন্নয়নে রাস্তা করা হবে। সেখানে কৃষি ও বনবিভাগের জমির ক্ষতি হচ্ছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সহকারী কমিশনার ভূমি ও কৃষি অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি।
পরিবেশবাদী ও স্থানীয়দের দাবি ফসলি জমির টপসয়েল কাটা এবং বন উজাড় করে রাস্তা নির্মাণ টেকসই উন্নয়নের পরিপন্থী। ১ ইঞ্চি টপসয়েল তৈরি হতে প্রকৃতির ১০ বছর লাগে। এতে মাটির উর্বরতা হয়।ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
স্থানীয়দের দাবি, জমির মালিক, কৃষি কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পুনরায় জমি জরিপ করে নতুন সিডিউল করা হোক।