চাঁদপুরে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ২৬ মে, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
চাঁদপুরে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

দেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।সেই সুবাদে আর একদিন পরেই কোরবানির ঈদ।  তাই এখন সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরেও ঈদের সকল প্রস্তুতি চলছে। এরই অংশ হিসেবে  শহর ও গ্রামে গঞ্জের সাপ্তাহিক হাটসহ জমে উঠছে কোরবানির পশুর হাট। ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে কেনাবেচাও। চাহিদা বেশি মাঝারি গরুর। সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় জার্মান প্রবাসী (পুরান বাজার ইসলামিয়া ওয়াচ,ঘড়ি হাজীর দোকান) শেখ বাদশাহ হোসেন নুহু জানান,তাঁর বড় ভাই ঊষা শেখকে সাথে নিয়ে এক লাখ দশ হাজার টাকায় চর এলাকার  গৃহস্থের পালিত একটি সাদা গরু কিনেছেন। এবার গরুর দাম বেশি যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদপুর শহরতলীর পুরান বাজার ওসমানিয়া মাদ্রাসা, বাবুরহাট কলেজ মাঠ, বাঘাদি চৌরাস্তা, রঘুনাথপুর, এমদাদিয়া মাদ্রাসা, বহরিয়া দোকান ঘরসহ বিভিন্ন কোরবানির পশুর হাট এখন জমজমাট। প্রবল বেগে ঝড় বৃষ্টি হওয়ায় দিনের শুরুর অর্ধেক সময় গরুর হার্টের ক্রয়-বিক্রয় বেত হয়। বিকাল চারটার পর জমজমাট হয়ে ওঠে  প্রতিটি হাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁক-ডাকে এখন মুখরিত বাজারগুলো। তবে দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

 সরেজমিনে দেখা যায়, একে একে গরু, ছাগল নিয়ে হাটে আসছেন খামারী ও ব্যপারীরা। সড়ক ও নদী পথে আসছে গরু। কোরবানির জন্য পছন্দের পশু কিনতে ভীড় করছেন ক্রেতারা। এক হাট থেকে অন্য হাটে ঘুরে পশুর দাম যাচাই করছেন তারা। শুধু চাঁদপুর শহর এলাকা নয়, সদর উপজেলা, হাজিগঞ্জ শাহরাস্তি কচুয়া, মতলব উত্তর মতলব দক্ষিণ, ফরিদগঞ্জ ও হাইমচরের হাট গুলোতেও চলছে জমজমাট বেচা-বিক্রি। তবে এসব হাটগুলোতে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের গরুর পাশাপাশি দেশি জাতের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বড় বড় গরু গুলো কুরবানীর পশুর হাত কাঁপাচ্ছে।  খামারিরা বলছেন, গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর পশু পালনে ও পরিচর্যার ব্যাপক খরচ বেড়েছে। দাম নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় রয়েছেন তারা। সঠিক দাম না পেলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

অপর দিকে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে দেশী গরুর চাহিদা থাকায় অতিরিক্ত দাম হাঁকাচ্ছেন খামারী ও ব্যাপারীরা। এতে কয়েক হাট ঘুরেও কোরবানির পশু ক্রয় করতে পারছেন না তারা। চাঁদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জ্যোতির্ময় ভৌমিক বলেন, জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৭৫ হাজার। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ি খামারিদের কাছে রয়েছে ৬৬ হাজার। বাকি ৯ হাজার যোগান দিবে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। আশা করি কোন ধরণের সংকট হবে না।

এখানে উল্লেখ্য, এবারও চাঁদপুর পৌরসভা, সদর উপজেলা সহ  অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট ইজারা নিয়ে ফের সমঝোতা ও সিন্ডিকেট হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে এখন হাট ইজারা হওয়ার অভিযোগ।২০২৪ সালের আগে যা ছিল আওয়ামী লীগ জলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে