ঈদে বাড়তি সর্তকতা

সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি বাতিল

এফএনএস (মোঃ রিয়াছাদ আলী; কয়রা, খুলনা) : | প্রকাশ: ২৬ মে, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি বাতিল

আর মাত্র ১ দিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। সেই ঈদকে সামনে রেখে সুন্দরবনে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে বন বিভাগ। একই সঙ্গে সুন্দরবনে কর্মরত সব কর্মকর্তা ও বনরক্ষীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সুন্দরবনের ভেতরে দায়িত্বরত বনরক্ষীদের টহল জোরদার করতে বলা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে , প্রতিবছর ঈদের সময় চোরা শিকারি চক্র সুন্দরবনে হরিণসহ বন্য প্রাণী শিকারের অপতৎপরতা চালায়। সেটি বন্ধ করতে এবার ঈদে সুন্দরবনে বন বিভাগে কর্মরত সব কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের ছুটি বাতিল করে কর্মস্থলে থেকে সার্বক্ষণিক টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই উদ্যোগ সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় ভূমিকা পালন করবে বলে দাবি করেছেন সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ শরিফুল ইসলাম। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনের বনরক্ষীদের অধিকাংশই বাড়িতে চলে যাওয়ায় অরক্ষিত হয়ে পড়ে সুন্দরবনের অধিকাংশ এলাকা। ফলে মৌসুমি হরিণশিকারি, বনের কাঠ লুটকারী চক্র ও বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনকারী ও অবৈধ মধু আহরণকারীরা নিরাপদ সময় মনে করছে ঈদের ছুটির কয়েকটা দিনকে। এ জন্য এবার সুন্দরবনের সব বনরক্ষীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সেই সঙ্গে টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া সুন্দরবনের সীমান্ত এলাকায় যেসব ক্যাম্প আছে, সেগুলো আরও বেশ কয়েক দিন আগে থেকেই হরিণ শিকার রোধে সতর্কতা অবলম্বন করছে। যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়, তার দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির কর্মীদের বহন করতে হবে। বনে অপরাধের সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, মাছ ধরার পাস নিয়ে বনে ঢ়ুকে হরিণ শিকার করে একশ্রেণির অসৎ লোক। বনজ সম্পদ রক্ষা করতে হলে এখনই তাদের চিহ্নিত করে দমন করতে হবে। ইয়ুথ ফর সুন্দরবনের সদস্য মোঃ ফরহাদ হোসেন বলেন, ঈদ সামনে রেখে বন বিভাগের এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। তবে হরিণ শিকার রোধ করতে শিকারিদের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করত হবে। মাঝে মধ্যে হরিণশিকারিদের ধরা পড়ার খবর মানুষ জানতে পারে। তবে যাঁরা ধরা পড়েন, তাঁরা দুর্বল আইনের কারণে কয়েক দিন পর জেল থেকে ফিরে এসে বন্য প্রাণী শিকারে যুক্ত হন। কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দীন  বলেন, কয়রা উপজেলার দুই একটি জায়গায়  হরিণ শিকারের জড়িত রয়েছে কিছু মানুষ। এ বছর বন বিভাগের নেওয়া পদক্ষেপের কারণে চোরা শিকারি চক্রগুলোর হরিণ শিকার করা প্রায় অসম্ভব হবে বলে আমার ধারণা করছি। আমাদের জনবল ও জলযানের সংকট আছে। এরপরও আমরা বনজ সম্পদ রক্ষায় আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি। পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বন বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও স্টাফদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তারা সার্বক্ষনিক টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে