ডাক্তার ও মালিক পলাতক

দৌলতপুরে ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

এফএনএস (মোঃ সাইফুল ইসলাম শাহিন; দৌলতপুর, কুষ্টিয়া) : | প্রকাশ: ২৬ মে, ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
দৌলতপুরে ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ


কুষ্টিয়ার  দৌলতপুরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসা ও চরম অবহেলার কারণে এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে)  রাতে উপজেলার ডাংমড়কা এলাকায় আল মদিনা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ডাক্তার ও ক্লিনিক মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা ক্লিনিক ফেলে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় নিহতের স্বামী মোঃ বিদ্যুৎ হোসেন বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন। মামলার আসামীরা হলেন- অপারেশন করা ডাক্তার টি এ কামাল, ক্লিনিকের মালিক জনি ও আরিফুল ইসলাম গেদু।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার মধুগাড়ী (বাজারপাড়া) গ্রামের বিদ্যুৎ হোসেনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ফাতেমা খাতুনের প্রসব বেদনা উঠলে সোমবার দুপুরে তাকে ডাংমাড়কা বাজারস্থ 'আল মদিনা ক্লিনিকে' ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকটি জনি ও তার পিতা আরিফুল ইসলাম গেদু (৬২) দ্বারা পরিচালিত। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ডাক্তার টি এ কামাল ফাতেমাকে অপারেশন রুমে নিয়ে যান। অপারেশনের কিছুক্ষণ পর ডাক্তার ও ক্লিনিকের মালিক পক্ষ ফাতেমার সদ্যজাত পুত্র সন্তানটিকে তার এক আত্মীয়ের কোলে দিয়ে তাড়াহুড়ো করে ক্লিনিক থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ফাতেমার স্বামী ও স্বজনরা অপারেশন রুমে ঢ়ুকে ফাতেমাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অপারেশন করার সময় চরম অবহেলা করা হয়েছে। এমনকি তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ফাতেমার অপারেশনের কাটা স্থানটি পর্যন্ত সেলাই করা হয়নি। রক্তাক্ত ও উন্মুক্ত অবস্থায় তাকে অপারেশন থিয়েটারে ফেলে রেখে যায় আসামিরা। নিহত ফাতেমার স্বামী বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, আমার স্ত্রীর যখন প্রসব বেদনা ওঠে, তখন ভালো চিকিৎসার আশায় আল মদিনা ক্লিনিকে নিয়ে এসেছিলাম। সন্ধ্যার সময় টি এ কামাল নামের ওই ডাক্তার আর ক্লিনিকের মালিক জনি আমার স্ত্রীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তারা আমার নবজাতক ছেলেকে আমাদের কোলে দিয়ে বলে 'বাচ্চাকে ধরেন, আমরা একটু আসছি।

এরপর দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে আমরা জোর করে অপারেশন রুমে ঢ়ুকে দেখি আমার স্ত্রী আর বেঁচে নেই। সবচেয়ে বড় নির্মমতা হলো, ওরা তাড়াহুড়ো করে পালানোর জন্য আমার স্ত্রীর পেটের কাটা অংশটুকু সেলাই করার প্রয়োজনও মনে করেনি! রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে সবাই পালিয়ে গেছে। আমি আমার স্ত্রীর এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই,  ডাক্তার আর ক্লিনিক মালিকদের শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে ক্লিনিকের মালিক আরিফুল ইসলাম গেদু বলেন, রোগির জনিত সমস্যা ছিল।  অপারেশনের সময় নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে সে মারা যায়।  নিহতের স্বজনদের সাথে বিষয়টি নিয়ে মিটমাটের প্রক্রিয়া চলছে! দু-একদিনের মধ্যে এটি সমাধান হয়ে যাবে! দৌলতপুর থানার প্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনার খবর শুনে ঐ রাতেই গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। নিহতের স্বামীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। চিকিৎসায় অবহেলা বা কোনো ধরনের জালিয়াতি হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে