নাটোরের লালপুর উপজেলার আজিমনগর রেলস্টেশনে চিলাহাটি এক্সপ্রেসের আনুষ্ঠানিক যাত্রাবিরতি উপলক্ষে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে পুরো এলাকায়। আর এই আনন্দঘন মুহূর্তে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের একটি আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন-
“শেকড় যেখানে, অনিশেষ ছুটে চলা সেখানেই....!
চিলাহাটি এক্সপ্রেস, গোপালপুর (আজিমনগর রেলস্টেশন) স্টপেজের পথে.........”
এই পোস্ট প্রকাশের পরপরই লালপুর ও গোপালপুর অঞ্চলের মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাস ও আবেগের ঢেউ। অনেকে পোস্টটি শেয়ার করে প্রতিমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি ট্রেনের স্টপেজ নয়, বরং লালপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনে আজিমনগরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি আজিমনগর রেলস্টেশনে পৌঁছাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রতিমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে আজিমনগর রেলস্টেশনকে সাজানো হয়েছে নতুন রূপে। স্টেশনজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের জনগণ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ সংবর্ধনা জানানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। আজিমনগর রেলস্টেশনে পৌঁছে প্রতিমন্ত্রী এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন। সেখানে তিনি চিলাহাটি এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি চালুর পেছনের নানা প্রচেষ্টা ও জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ঈদুল আজহার আগমুহূর্তে আজিমনগরে চিলাহাটি এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত লালপুরবাসীর ঘরে ফেরা হবে আরও সহজ, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক। ফলে ঈদের আনন্দ যেন কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখছেন-
“বাবা দিয়েছিলেন লালমনি এক্সপ্রেস, মেয়ে দিলেন চিলাহাটি এক্সপ্রেস।”
এ বাক্যটি এখন পুরো এলাকায় মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে আবেগ ও গর্বের সঙ্গে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, আজিমনগর রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের এ যাত্রাবিরতি লালপুর উপজেলার যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সার্বিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।