দৌলতপুরে

ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওসিএলএসডির বিরুদ্ধে

এফএনএস (মোঃ সাইফুল ইসলাম শাহিন; দৌলতপুর, কুষ্টিয়া) :
| আপডেট: ২৭ মে, ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম | প্রকাশ: ২৭ মে, ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওসিএলএসডির বিরুদ্ধে

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে ৫০ কেজির বস্তায় ৪০ কেজি চাল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা। উপজেলা খাদ্য গুদামের ইনচার্জ (ওসি, এল,এস,ডি) সেলিম রেজার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়। 

অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ে গিয়ে অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ কেজি চালের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে ৬ থেকে ৭ কেজি করে বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদেই একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী চাল সরবরাহ করা হলেও অধিকাংশ বস্তায় নির্ধারিত ওজনের চেয়ে কম চাল পাওয়া গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এতে ভিজিএফ কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজারের বেশি কার্ডধারী পরিবার ভিজিএফ সুবিধার আওতায় রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি পরিবারকে ঈদ উপলক্ষে ১০ কেজি করে চাল বিতরণের কথা রয়েছে। এরই মধ্যে রিফায়েতপুর ইউনিয়নে ১ হাজার ৮০৫টি কার্ডের বিপরীতে ১৮ হাজার ৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা ৫০ কেজির ৩৫৫টি বস্তার সমান। তবে ইউনিয়ন পরিষদে চাল পৌঁছানোর পর দেখা যায়, অধিকাংশ বস্তায় ৪০ থেকে ৪৮ কেজি পর্যন্ত চাল রয়েছে।  এতে শুধু ওই ইউনিয়নেই প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি চাল কম পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ভিজিএফের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে এ ধরনের অনিয়ম অসহায় মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।  তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। চাল পরিবহণ ও খালাস কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, তারা ৩৫৫ বস্তা চাল ইউনিয়ন পরিষদে নামিয়েছেন। বস্তার গায়ে ৫০ কেজি নিট ওজন লেখা থাকলেও বাস্তবে কোনো বস্তাতেই পূর্ণ ওজন পাওয়া যায়নি। রিফায়েতপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বকুল বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরাদ্দকৃত চালের অধিকাংশ বস্তাতেই ওজন কম পাওয়া গেছে।  বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সেলিম রেজা কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, বিষয়টি এখনো আমার নজরে আসেনি। কোনো ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও সেইভাবে জানানো হয়নি। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।এ দিকে এর কিছু দিন আগে পলাতক শেখ হাসিনার নাম সম্বলিত বস্তায় খলিষাকুন্ডি ইউনিয়নে২৩৪ বস্তা  চাউল প্রদান করা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে