শোলাকিয়ায় কাঁদাজলে অনুষ্ঠিত হলো দেশের অন্যতম বড় ঈদ জামাত

এফএনএস (আমিনুল হক সাদি; কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ২৮ মে, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
শোলাকিয়ায় কাঁদাজলে অনুষ্ঠিত হলো দেশের অন্যতম বড় ঈদ জামাত

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টি ও ঘন কালো মেঘে ঢেকে ছিল কিশোরগঞ্জের আকাশ। ঈদের দিন সকালে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও জামাত শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই নামে ভারী বর্ষণ। তবে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই কাঁদাজলে দেশের অন্যতম বৃহ্ত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহে। ভেজা ও কাদামাখা মাঠেই অনুষ্ঠিত হয় ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত।

ভোর থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা বৃষ্টির মধ্যেই ঈদগাহ ময়দানে আসতে শুরু করেন। কেউ রেইনকোট, কেউ ছাতা, আবার কেউ প্লাস্টিকের আবরণ মাথায় দিয়ে জামাতে অংশ নেন। মাঠজুড়ে কাদা ও পানি জমে গেলেও মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কোনও ঘাটতি ছিল না। নিরাপত্তার স্বার্থে জায়নামাজ ও মোবাইল ফোন ছাড়া অন্য কিছু মাঠে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর ১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে দুটি এবং ৫ মিনিট আগে একটি শর্টগানের গুলি ফুটিয়ে নামাজের সংকেত দেওয়া হয়। সকাল ৯টায় শুরু হয় জামাত। এতে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বৃষ্টিভেজা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন ছিল দুই প্লাটুন বিজিবি, শত শত পুলিশ, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বৃষ্টির মধ্যেই দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট পুরো মাঠ পরীক্ষা করে নিশ্চিত করে নিরাপত্তা। মাঠজুড়ে ছিল সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার।

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে দুটি বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়। একটি ভৈরব থেকে এবং অন্যটি ময়মনসিংহ থেকে শোলাকিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। ভেজা সড়ক ও বৃষ্টি উপেক্ষা করেও হাজারো মানুষ ছুটে আসেন শোলাকিয়ায়।

জামাতে অংশ নেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মো: মাজহারুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত ও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো কামরুল হাসান মারুফ বলেন, ‘‘বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রেখেছিলাম। মুসল্লিদের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে জামাত সম্পন্ন হয়েছে।’’

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ‘‘বৃষ্টি ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অটুট। এটি আমাদের জন্য সফল আয়োজন।’’ কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত শোলাকিয়া ঈদগাহ ১৭৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। জনশ্রুতি র, ১৮২৮ সালে এখানে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই ‘সোয়া লাখ’ শব্দ থেকেই পরবর্তীতে নাম হয় ‘শোলাকিয়া’।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে