চট্টগ্রামের শিল্প ও উপকূলীয় জনপদ সীতাকুণ্ড উপজেলায় ধর্মীয় অবকাঠামো, সামাজিক সম্প্রীতি, জনস্বাস্থ্য ও পর্যটন উন্নয়নকে কেন্দ্র করে প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকার একটি মহাপরিকল্পনার রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র ঈদুল আজহার ঈদ জামাতে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এ উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সম্পূর্ণ বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক অনুদাননির্ভর এই কর্মসূচির আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১,৭০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় সীতাকুণ্ড পৌরসভা, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাহাড়তলী ও কাট্টলী ওয়ার্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
মহাপরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর কেন্দ্রীয় মডেল মসজিদ নির্মাণ, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা। এটি ধর্মীয় শিক্ষা, ইসলামী সংস্কৃতি চর্চা এবং সামাজিক মিলনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ৩০ থেকে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে পৃথক আঞ্চলিক মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে প্রান্তিক ও গ্রামীণ মসজিদগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দের কথাও জানানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের অংশ হিসেবে লালদীঘির চারপাশে একটি আধুনিক ওয়াক-ওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়। এটি স্থানীয়দের জন্য হাঁটাচলা, প্রাতঃভ্রমণ ও শারীরিক ব্যায়ামের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংসদ সদস্য অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী বলেন, সীতাকুণ্ডকে একটি আধুনিক, সমন্বিত ও পর্যটনসমৃদ্ধ মডেল উপজেলায় রূপান্তর করাই এ মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য। শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই এলাকার প্রাকৃতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সহাবস্থান বজায় রেখে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ের উন্নয়নে সমানভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঘোষিত এই মেগা উন্নয়ন রূপরেখাকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ঈদ জামাত শেষে উপস্থিত অনেকেই এটিকে সীতাকুণ্ডের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখছেন। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচি ও অর্থায়নের বিস্তারিত রোডম্যাপ এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।