পঁচিশ বছরেরও নির্মিত হয়নি সেতু

বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে কিশোরের মৃত্যু

এফএনএস (মোঃ আরিফুল হক তারেক; মুলাদী, বরিশাল) : | প্রকাশ: ৩০ মে, ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে কিশোরের মৃত্যু

বরিশালের মুলাদীতে ২৫ বছরেও সেতু নির্মাণ হয়নি বাটামারা ইউনিয়নের লক্ষ্ণীরহাট সংলগ্ন খালে। সেতু নির্মাণ না হওয়ায় প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন চরসাহেবরামপুর ও লক্ষ্ণীরহাট এলাকার বাসিন্দারা। প্রতিবছর সাঁকো ভেঙে, সাঁকো থেকে পড়ে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই সাঁকো থেকে খালে পড়ে সিফাত হোসেন (১৪) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীরা। 

সিফাত হোসেন উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের চরসাহেবরামপুর গ্রামের আজিজুল সরদারের ছেলে। মা মারা যাওয়ার পরে তার বাবা ২য় বিয়ে করায় তিনি লক্ষ্ণীরহাটে রুবেল হোসেনের ফার্নিচারের দোকানে কাজ করতেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাঁকো পারাপারের সময় পা পিছলে খালে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন। 

বরিশাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সেলিম মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাঁকো থেকে পড়ে খালে নিখোঁজ কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। 

মুলাদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওয়্যারহাউজ পরিদর্শক মো. সজিবুর রহমান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় সাঁকো পারাপারের সময় সিফাত পিছলে খালে পড়ে যান। বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা খালের মধ্যে খোঁজাখুজি করে তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে সংবাদ দেন। পরে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের একদল ডুবুরী শনিবার ৯টার দিকে সিফাতের লাশ উদ্ধার করেন।

লক্ষ্ণীরহাট এলাকার বাসিন্দা রবিউল হাসান বলেন, সিফাত নানা বাড়িতে থেকে বাজারে ফার্নিচারের দোকানে কাজ করতো। ওই দোকানের কাঠ পরিবহনের ট্রলারটি খালের উত্তরপাশে বাজার সংলগ্ন রাখলে বৃষ্টিতে ডুবে যায়। তাই ট্রলারটি খালের দক্ষিণ পাশে রাখা হয়। শুক্রবার বিকেলে বৃষ্টিতে সাঁকোটি পিচ্ছিল হয়ে যায়। ট্রলার থেকে দোকানে যাওয়ার সময় সিফাত পা পিছলে পড়ে গিয়েছিল। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় দুজন নারী ডাকচিৎকার করেন। পরে খালে খোঁজ শুরু হয়। কিন্তু পানি বেশি থাকায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে সংবাদ দেন। চরসাহেবরামপুর গ্রামের মো. ছরোয়ার হোসেন জানান, লক্ষ্ণীরহাট স্থাপিত হওয়ার পরে ২০০১ সাল থেকে প্রতিবছরই জনপ্রতিনিধিরা খালটিতে সেতু নির্মিণের আশ্বাস দিয়ে আসছেন। কিন্তু সেতু নির্মাণের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ সাঁকোটি প্রতিবছর বাঁশ-গাছ দিয়ে সংস্কার করে আছেন। সাঁকোটিতে প্রতিবছরই কম-বেশি দুর্ঘটনা ঘটে। মাঝেমধ্যে ভেঙে পড়লে নৌকা দিয়ে খাল পাড় হতে হয়। জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। মুলাদী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জহির উদ্দীন খসরু বলেন, লক্ষ্ণীরহাটের খালের দীর্ঘ সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে ৯৫ মিটার গার্ডার সেতু নির্মাণের জন্য ২০২২ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্যের মাধ্যমে একটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছিল। এরপর কোন অগ্রগতি হয়নি।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, বাটামারা ইউনিয়নের লক্ষ্ণীরহাট সংলগ্ন সাঁকোর স্থলে সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে