নদীভাঙন আতঙ্কে প্রতিবাদ, বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি

এফএনএস (মোঃ সিদ্দিকুল ইসলাম সিদ্দিক; চিলমারী, কুড়িগ্রাম) :
| আপডেট: ৩১ মে, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম | প্রকাশ: ৩১ মে, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
নদীভাঙন আতঙ্কে প্রতিবাদ, বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের অবৈধ বালু উত্তোলন ও অনিয়ন্ত্রিত ড্রেজিং বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।  গত শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট বাঁধ এলাকায় সচেতন তরুণ সমাজের উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন।  নদীভাঙনে মানুষ কাঁদে, বালু দস্যুরা টাকা বাঁধে, বাপ-দাদার ভিটা বাঁচান, রাণীগঞ্জবাসী রুখে দাঁড়ান’সহ বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত ব্যানার- ফেস্টুন হাতে তারা অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।’

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন ও ড্রেজিং পরিচালিত হওয়ায় নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি ব্যাহত হচ্ছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। নদীতীরবর্তী বহু পরিবার বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার নদীগর্ভে জমি ও ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। মানববন্ধন থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধ বালু উত্তোলন ও অনিয়ন্ত্রিত ড্রেজিং বন্ধ, প্রশাসনের জব্দ করা বালু ২০০৯ সালের মোবাইল কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত অপসারণ এবং পরিবেশসম্মত নদী খনন নিশ্চিত করা। এছাড়া কাঁচকোল থেকে ফকিরের হাট পর্যন্ত স্থায়ী ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, টি-বাঁধ, পিসি ব্লক ও জিও ব্যাগসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিয়মিত টহল ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দাবি জানানো হয়। চিলমারী মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক নিহারিকা শারমিন দিপির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ।

তিনি বলেন, নদীকে ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক চরিত্র নষ্ট হচ্ছে। নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা ও বসতভিটা আজ হুমকির মুখে। জনস্বার্থে এসব কার্যক্রম বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’ এ সময় বক্তব্য দেন ফকিরের হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন, সমাজ উন্নয়নকর্মী মো. শাহজামাল, খন্দকার বদরুল ইসলাম, আশিক ইকবাল, সোহেল রানা, রফিজুল ইসলাম রতন ও ব্যবসায়ী মুকুল মন্ডল। মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে দেন। পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে