ভোমরা স্থলবন্দর

চাহিদার অভাবে কাঁচা তুলা আমদানি কমেছে ৪০ শতাংশ

এফএনএস (এস.এম. শহিদুল ইসলাম; সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ৩১ মে, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
চাহিদার অভাবে কাঁচা তুলা আমদানি কমেছে ৪০ শতাংশ

দেশের তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) ও সুতা উৎপাদনকারী টেক্সটাইল মিলগুলোতে চাহিদা কমে যাওয়ায় সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা তুলা আমদানি আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) এই বন্দর দিয়ে তুলার আমদানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। পরিমাণে যা প্রায় ৬৯৭ টন কম।

ভোমরা কাস্টম হাউসের রাজস্ব শাখার তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে এই বন্দর দিয়ে ১ হাজার ১১৩ টন কাঁচা তুলা আমদানি হয়েছে। যার আমদানি মূল্য ছিল ৬৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। অথচ গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ১ হাজার ৮১০ টন তুলা, যার আর্থিক মূল্য ছিল ৯৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকেরা বলছেন, দেশের বাজারে সুতা ও কাপড়ের চাহিদা কম থাকায় টেক্সটাইল মিলগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। ফলে কাঁচা তুলার চাহিদাও কমে গেছে। মেসার্স সুন্দরবন এজেন্সি (তুলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান) এর স্বত্বাধিকারী পরিতোষ কুমার বলেন,"গত অর্থবছরের তুলনায় এবার আমাদের প্রতিষ্ঠানে তুলা আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। দেশীয় টেক্সটাইল মিল ও গার্মেন্টসে চাহিদা না থাকায় আমদানির এই মন্দা দশা।"

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, বাংলাদেশের বাজারে চাহিদা কমায় ভারতীয় বাজারেও তুলার দামের ওপর এর প্রভাব পড়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় ভারতে তুলার দাম কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। আগে ভারতে যে কাঁচা তুলা প্রতি পাউন্ড ১১৪ টাকা দরে বিক্রি হতো, বর্তমানে তা কমে ৯৫ টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ পাউন্ডপ্রতি দাম কমেছে প্রায় ১৯ থেকে ২০ টাকা। এ প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এস এম আব্দুল্লাহ বলেন, "আমাদের দেশে পোশাক খাতের জন্য প্রয়োজনীয় তুলার সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তবে সম্প্রতি স্থানীয় সুতা উৎপাদনকারী মিলগুলোতে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণেই ভোমরা বন্দর দিয়ে এই পণ্যটির আমদানি কমে গেছে।" খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে গতি না ফিরলে কাঁচা তুলার আমদানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া কঠিন হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে