বরিশালের গৌরনদীতে আগামী ৩ জুন (বুধবার) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী লালন উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।বরিশাল-মাদারীপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এবার অনুষ্ঠানে ৪০ থেকে ৫০ হাজার ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীদের সমাগম হবে বলে আশা করেছেন আয়োজক কমিটি। অনুষ্ঠান দেখতে প্রতিবছরই আসেন সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। অনুষ্ঠানকে ঘিরে পরিনত হয় এক মিলন মেলা।
জানা গেছে, বরিশালের গৌরনদীর উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মেদাকুল শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রমে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান উৎসবে প্রতিবছরই আয়োজন করা নানা আচার-অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানকে ঘিরে মন্দিরে পাশে থাকা এক কিলোমিটার সমান পুকুর সাজানো হয় বর্নিল আলোকসজ্জায়। সড়কের চারপাশ আধুনিক লাইটিং দিয়ে মনোমুগোদ্ধকর পরিবেশ তৈরি করা হয়। দর্শক স্রোতাদের মন আকৃষ্ট করতে গভীররাত পর্যন্ত চলে কুষ্টিয়ার লালন একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় লালন উৎসব।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, একতা লোকনাথ সংঘের আয়োজনে বৃহস্পতিবার রামযাত্রা পালা, শুক্রবার নিমাই সন্ন্যাসী পালা। শনিবার রাত আটটা থেকে শুরু হবে বিখ্যাত পাঠক বিল্লমঙ্গল দেবনাথ দাসের শ্রীমদ্ভগবদ পাঠ। পরেরদিন অর্থাৎ শেষদিন রবিবার শ্রীমদ্ভগবদ পাঠ করবেন গোপীনাথ দাস ব্রহ্মচারী। প্রতিদিনই আগত ভক্তবৃন্দের জন্য রাখা হয়েছে প্রসাদের ব্যবস্থা। একতা লোকনাথ সংঘের পূজা উদযাপন কমিটির আহবায়ক সঞ্জয় কর্মকার অভিজিৎ বলেন, প্রায় আড়াই যুগ ধরে প্রতিবছর এইদিনে হয়ে আসছে এই আয়োজন। এলাকার সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি এলাকাবাসী আনন্দ দিতেই প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকলের সহযোগিতায় আগামী অনুষ্ঠান আরো বৃহৎ আকারে করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজক কমিটির।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেন, অনুষ্ঠানকে ঘিরে দর্শনার্থীর নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ মাঠে থাকবে। সেই মোতাবেক তৎপরতা শুরু করেছে থানা পুলিশ। এছাড়া অনুষ্ঠানে সাদাপোশাকে পুলিশ কাজ করবে, যাতে সুন্দরভাবে অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম বলেন, এটি উপজেলার অনেক বড় ধর্মীয় আয়োজন। তাই আলাদা নজরদারি রাখতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।