ছয় মাসেও ‘জিয়ানগর’ নাম বাস্তবায়ন হয়নি বিদ্যালয়ে

এফএনএস (শহিদুল ইসলাম; জিয়ানগর, পিরোজপুর) : | প্রকাশ: ২২ জুন, ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
ছয় মাসেও ‘জিয়ানগর’ নাম বাস্তবায়ন হয়নি বিদ্যালয়ে

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার নতুন নাম ব্যবহার না করায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনের ছয় মাস পার হলেও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাইনবোর্ডে এখনও পুরোনো নাম ‘ইন্দুরকানী’ বহাল রয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইন্দুরকানী উপজেলার নাম পরিবর্তন করে ‘জিয়ানগর’ ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইন্দুরকানী কলেজ মাঠে এক জনসভায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে উপজেলার নাম ‘জিয়ানগর’ ঘোষণা করেছিলেন। পরে ২০১৭ সালে জাতীয় বাস্তবায়ন, প্রশাসন ও সমন্বয় কমিটির (নিকার) সিদ্ধান্তে উপজেলার নাম পুনরায় ‘ইন্দুরকানী’ করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আবারও ‘জিয়ানগর’ নাম কার্যকর করা হয়।

রোববার সরেজমিনে উপজেলার ৩৪ নং কলারণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন সাইনবোর্ডে এখনও ‘ইন্দুরকানী’ নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোথাও ‘জিয়ানগর’ নাম সংযোজন করা হয়নি। স্থানীয় বিএনপি নেতা হাই জোমাদ্দার বলেন, “সরকারিভাবে উপজেলার নাম পরিবর্তনের ছয় মাস পার হলেও বিদ্যালয়ে এখনও পুরোনো নাম ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমরা মনে করি, এটি শুধু প্রশাসনিক অবহেলা নয়, বরং নতুন নাম বাস্তবায়নে অনীহারও বহিঃপ্রকাশ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর-রশিদ ওলামা লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বিভিন্ন সময় বলতেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি স্কুলে চাকরি করবেন না। অথচ বর্তমানে দায়িত্বে থেকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার নতুন নাম ‘জিয়ানগর’ ব্যবহার করছেন না।”

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর-রশিদ বলেন, “বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে এখনও নাম পরিবর্তনের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।” উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আমীন জানান, বিদ্যালয়গুলোকে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কেন তা বাস্তবায়ন করেনি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে