জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্পে সৌরশক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি

এফএনএস (এইচ এম শহিদুল ইসলাম; সিলেট) : | প্রকাশ: ৪ জুন, ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্পে সৌরশক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দাবি

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, জীবাশ্ম জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আগামী জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, পরিবেশকর্মী ও খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত করার বিকল্প নেই। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সিলেট প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি: প্রাক-বাজেট সংবাদ সম্মেলন’-এ বক্তারা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ক্লিন, আইডিয়া ও বিডিইডি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও কয়লার মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। এর ফলে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতে বিপুল ভর্তুকি ও ক্যাপাসিটি পেমেন্ট রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারা বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের হার এখনও খুবই কম। অথচ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সৌরচালিত সেচ প্রকল্প, কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, জলাশয়ভিত্তিক ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং কমিউনিটি-নিয়ন্ত্রিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। বক্তারা জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি সোলার প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত কর ও শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নতুন কয়লা, তেল ও এলএনজিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ সীমিত করে সৌর ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকায়ন, নেট মিটারিং সুবিধার সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতে সবুজ জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

বক্তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠবে। সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশকর্মী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষার্থী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোক্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফেড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম। এ সময় বক্তব্য দেন আইডিয়ার পরিচালক নাজিম আহমদ, ফেড কমিটির সদস্য ও সোলার প্যানেল ইনস্টলার মোহাম্মদ ফারুক, আইডিয়ার কর্মকর্তা তামান্না আহমদ এবং ক্যাম্পেইন অ্যাসোসিয়েট নোমান খান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে