সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. মশিউর রহমান বলেছেন, জীবনে সফল হতে হলে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; এর পাশাপাশি শৃঙ্খলা, সততা, দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। তিনি সবাইকে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই নিজেদের দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও নৈতিকতাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার, সময়ের সঠিক মূল্যায়ন এবং অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে সক্ষম হবে। তিনি গার্ল গাইড সদস্যদের দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত থেকে মানবসেবার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সোমবার সকালে সিলেট নগরীর পূর্ব জিন্দাবাজারের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘হলদে পাখি’ কার্যক্রম সম্প্রসারণবিষয়ক সমন্বয় সম্মেলনে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মো. মশিউর রহমান বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি গাইডিং কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের জীবনদক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রাথমিক স্তরে ‘হলদে পাখি’ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হলে ছাত্রীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ বাড়বে এবং তারা ভবিষ্যতে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ও প্রশিক্ষণ কমিশনার এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গ্রেড-১ কর্মকর্তা (অব.) কাজী জেবুন্নেছা বেগম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ওয়ারেন্ট গাইডার পূর্ণিমা রানী দাস। সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক কমিশনার বাবলী পুরকায়স্থ এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ডেপুটি জাতীয় কমিশনার (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আহমেদ। এতে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ. কে. এম. সাইফুল হাসান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক কমিশনার বীনা প্রভা চাকমা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ, জেলা কোষাধ্যক্ষ শামীমা আক্তার নেভী, ট্রেইনার শিরীন গুলসান আরা, রোকসানা আক্তার তুলি, শারমিন সুলতানা, শিপ্রা দে প্রমুখ। হলদে পাখি কমিশনার বেলা রানী সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। দিনব্যাপী এ সম্মেলনে সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে প্রায় ২৩০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কুমিল্লা অঞ্চলের আঞ্চলিক কমিশনার পাপড়ী বসু।