প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ‘হলদে পাখি’ কার্যক্রমের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সকাল ১১টায় নগরীর কাজীটুলাস্থ বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশন-এর গাইড হাউজ মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশন সিলেট জেলা ও সদর স্থানীয় এসোসিয়েশন। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ সভায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাইড শিক্ষিকা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলার জেলা কমিশনার রোকসানা বেগম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়ারেন্ট গাইডার পূর্ণিমা রানী দাস। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাখাওয়াত এরশেদ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সিলেট।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশন সিলেট আঞ্চলিক কমিশনার বাবলী পুরকায়স্থ। তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে ‘হলদে পাখি’ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ কর্মসূচির ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, ‘হলদে পাখি’ সংগঠনের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্বের গুণাবলী, শৃঙ্খলাবোধ, আত্মনির্ভরশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে। এ কার্যক্রমের সফল সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তারা জেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘হলদে পাখি’ কার্যক্রম চালু ও সক্রিয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক সম্পাদক সাহানা জাফরীন রোজি, সদস্য সিদ্দিকা খাতুন, শারমিন সুলতানা, জেলা কোষাধ্যক্ষ শামীমা আক্তার নেভী, ট্রেইনার শিরীন গুলসান আরাসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাইড শিক্ষিকা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা ‘হলদে পাখি’ কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও সম্প্রসারণের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে মতামত প্রদান করেন। সভা শেষে ‘হলদে পাখি’ কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।