পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার লড়াই যাঁদের প্রতিদিনের বাস্তবতা, সেই দরিদ্র ও প্রান্তিক সদস্যদের জীবন বদলে দিতে এগিয়ে এসেছে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স। সম্প্রতি জামালপুর অঞ্চলে ৩৮ লক্ষ টাকা মূল্যের ধান ও সবজি বীজ বিতরণ করা হয়েছে, যা কেবল একটি কর্মসূচি নয়, এটি হাজারো পরিবারের জন্য একটি নতুন সূচনার গল্প। এই কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা হয়েছে ৪,০০০ কেজি আমন ধান বীজ এবং ২১,০০০ প্যাকেট বিভিন্ন প্রকার সবজি বীজ। মরিচ, বরবটি, মিষ্টি কুমড়া, পেঁপে, বেগুন, ডাঁটা শাক, ঝিঙা, শশা, চালকুমড়া, করলা, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, ঢেঁড়স ও লাল শাক, প্রতিটি জাতের ১,৫০০ প্যাকেট করে পৌঁছে গেছে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের হাতে।
এই বীজ শুধু মাটিতে পোঁতা হবে না, এর সাথে পোঁতা হবে আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন। সদস্যরা নিজেদের বসতভিটা ও আবাদযোগ্য জমিতে ফসল ফলিয়ে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করবেন, আর অতিরিক্ত উৎপাদন বিক্রি করে গড়ে তুলবেন নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত। এই মহতী উদ্যোগকে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন ব্র্যাক জামালপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক জনাব সিমসন হালদার। তাঁর নেতৃত্বে পুরো কর্মসূচি পরিচালনায় অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এলাকা ব্যবস্থাপকবৃন্দ, মোঃ হুমায়ূন কবির, মোঃ আল-মামুন, মোঃ নজরুল ইসলাম, মোঃ জুয়েল মিয়া ও মোঃ শফিকুল ইসলাম। পাশে ছিলেন আর.সি. লিড জেনারেশন আনোয়ার হোসেন, এক্সটেনশন অফিসার মাহাবুবুল আলম এবং অঞ্চলের সকল শাখা ব্যবস্থাপক ও কর্মীবৃন্দ। যে মানুষগুলো প্রতিদিন মাঠে নামেন, সদস্যদের দরজায় যান, তাঁদের নিরলস উপস্থিতিই এই কর্মসূচিকে কাগজ থেকে মাটিতে নামিয়ে এনেছে।
ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের এই কৃষি সহায়তা কর্মসূচি প্রমাণ করে, উন্নয়ন মানে শুধু ঋণ নয়, উন্নয়ন মানে মানুষকে তার নিজের শক্তির উপর দাঁড় করিয়ে দেওয়া। একটি ছোট বীজ থেকে যেমন বিশাল গাছ জন্মায়, তেমনি এই উদ্যোগ থেকে জন্ম নেবে খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি নিশ্চয়তা আর আর্থিক স্বাবলম্বিতার এক টেকসই ভবিষ্যৎ। জামালপুরের মাটিতে আজ যে বীজ বোনা হলো, সেই বীজ একদিন হয়ে উঠবে হাজারো পরিবারের মুক্তির ফসল।