চাঁদপুর-হাইমচর সড়কের

দোকানঘর অংশ যেন মৃত্যুফাঁদ, দ্রুত সংস্কারের দাবি

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ৮ জুন, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
দোকানঘর অংশ যেন মৃত্যুফাঁদ, দ্রুত সংস্কারের দাবি

চাঁদপুর-হাইমচর সড়কের পুরানবাজার লোহারপুল থেকে দোকানঘর এলাকা পর্যন্ত অংশটির বেহাল অবস্থা জনদুর্ভোগের চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় দুটি উপজেলার সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ এবং শত শত যানবাহন চলাচল করলেও সড়কটির সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, চাঁদপুর-হাইমচর সড়কের পুরানবাজার লোহারপুল থেকে দোকানঘর এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে ইট ও খোয়া বের হয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্ত পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে চালক ও পথচারীরা গর্তের গভীরতা বুঝতে না পেরে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য সড়কটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. শাহীন বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে গাড়ি চলার সময় ধুলাবালি ও কাঁপুনিতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে যায়। তখন রাস্তা আর পুকুরের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না।”

হাইমচরগামী যাত্রী মো. সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন কর্মস্থলে যেতে এই সড়ক ব্যবহার করতে হয়। রাস্তার গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় যাত্রাপথে গাড়ি বিকল হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই।” স্থানীয় বাসিন্দা রওশন আরা বেগম বলেন, “ এই সড়কে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হলে ভয় কাজ করে। কখন যে গাড়ি উল্টে যায় বা দুর্ঘটনা ঘটে, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়।”

অটো রিকশাচালক আব্দুল কাদের বলেন, “ভাঙা রাস্তার কারণে রিকশা চালাতে অনেক কষ্ট হয়। প্রতিদিন গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। আয় কমে গেছে, কিন্তু খরচ বেড়ে গেছে।” স্থানীয় মজুমদার বাড়ির টুটুন মজুমদার জানান, “বৃষ্টির সময় রাস্তার গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যায়। তখন হেঁটে চলাও বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। অনেককে হোঁচট খেয়ে পড়ে যেতে দেখা যায়। আর রাতের বেলা এই সড়কে পায়ে হেঁটে চলাচল একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ছোট ছোট দুর্ঘটনা এখন এই সড়কের নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, সড়কটির দুরবস্থার কারণে শুধু যাত্রীদের দুর্ভোগই বাড়ছে না, বরং কৃষিপণ্য, মাছ ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনেও বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কারের দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে টেকসই কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে সাময়িক মেরামতের কাজ করা হলেও তা কয়েকদিনের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ভুক্তভোগী যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিশেষ করে তারা চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এবং জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে