সীমান্তে পুশ-ইন

কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন জরুরি

এফএনএস | প্রকাশ: ১৫ জুন, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন জরুরি

ভারতের নয়াদিল্লিতে সদ্য শেষ হওয়া বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে সীমান্তে শান্তি, আস্থা ও দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। কিন্তু সম্মেলনের কালি শুকানোর আগেই কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ১২ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলেও ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে- কূটনৈতিক বার্তা ও সীমান্তের বাস্তবতা কি একই পথে এগোচ্ছে? বাংলাদেশের অবস্থান সবসময়ই পরিষ্কার। যে ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যাচাইকৃত হবে, তাকে গ্রহণ করা হবে, তবে সেটি অবশ্যই প্রচলিত কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। অন্যদিকে বিএসএফের দাবি, জাতীয়তা যাচাইয়ের জন্য পাঠানো বহু আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। তাদের মতে, যাচাই ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। এই দুই অবস্থানের মধ্যকার ব্যবধানই বর্তমান সংকটকে জটিল করে তুলছে। সামপ্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় ভিন্ন। আগে সীমান্ত উত্তেজনা দেখা দিত অনুপ্রবেশ, চোরাচালান কিংবা সীমান্ত হত্যাকে কেন্দ্র করে। এখন শূন্যরেখা মানবিক ও কূটনৈতিক সংকটের নতুন মঞ্চে পরিণত হয়েছে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের রাতের অন্ধকারে সীমান্তে এনে তারকাঁটার বেড়ার কাছে ফেলে রাখা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। কে বাংলাদেশি, কে ভারতীয়, আর কে রোহিঙ্গা- তা নির্ধারণ করাই হয়ে উঠছে বড় চ্যালেঞ্জ। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মে মাস থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। শুধু গত কয়েক সপ্তাহেই ২১টি পুশ-ইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ দুই শতাধিক মানুষ ভুক্তভোগী ছিলেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, পুশ-ইন সম্পূর্ণ বেআইনি ও অমানবিক। বন্দুকের ভয় দেখিয়ে কিংবা প্রাকৃতিক দুর্ভোগের মধ্যে মানুষকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এটি সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ায় এবং দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বৈধ ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রত্যাবাসনের সুযোগ থাকতেই পারে, কিন্তু জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মনে করি, সীমান্তে শান্তি ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে যৌথ বিবৃতির ভাষাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। জাতীয়তা যাচাই, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রত্যাবাসন হওয়া উচিত। অন্যথায় সীমান্তে মানবিক বিপর্যয় বাড়বে, আকস্মিক সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হবে এবং ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে অবিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। মনে রাখা জরুরি, সীমান্তে পুশ-ইন বন্ধ করা শুধু কূটনৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং মানবিক কর্তব্য।