প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিড়ি শিল্পের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি না করায় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন। একই সঙ্গে দেশীয় শ্রমঘন বিড়ি শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় বহুজাতিক কোম্পানির নিম্নস্তরের সিগারেট উৎপাদন বন্ধ, বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১১টায় রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ স্লোগানে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট দেশের ৫৫তম বাজেট। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে প্রাধান্য দিয়ে প্রণীত এ বাজেটকে সংগঠনটি গণমুখী, বাস্তবভিত্তিক ও কল্যাণমুখী হিসেবে অভিহিত করে।
সংগঠনের নেতারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যে করছাড় এবং বিড়ি শিল্পের ওপর বিদ্যমান শুল্ক অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণে সহায়ক হবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, বিড়ি শিল্প দেশের অন্যতম প্রাচীন শ্রমঘন শিল্প এবং দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিগুলো নিম্নস্তরের সিগারেট বাজারের অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, যা দেশীয় শিল্পের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দেশীয় শিল্প ও শ্রমিকদের স্বার্থে বহুজাতিক কোম্পানির নিম্নস্তরের সিগারেট উৎপাদন বন্ধের দাবি জানানো হয়। এ সময় বিড়ি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে মজুরি পুনর্র্নিধারণেরও আহ্বান জানানো হয়। নেতারা বলেন, শ্রমিকরাই দেশের অর্থনীতির ভিত্তি। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হলে উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত বিড়ির বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রির কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বৈধ করদাতা উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিপণন বন্ধে কঠোর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো: বহুজাতিক কোম্পানির নিম্নস্তরের সিগারেট উৎপাদন বন্ধ করা, ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে বিড়ি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করা। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হারিক হোসেন, সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন ও আনোয়ার হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত লাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর, দপ্তর সম্পাদক আতাউর রহমান এবং সদস্য রাশেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।