রংপুরের হারাগাছ এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন নাঈমুর রহমান নাঈম, সিরাজুল ইসলাম, রমজান আলী ও শরীফ মিজান। তাদের বিরুদ্ধে শিবির কর্মী মো. আহসান হাবিব (২১) হারাগাছ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত একটি চরমোনাই মাহফিলে জিকিরের সময় অংশগ্রহণকারীদের আচরণ নিয়ে ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় হারাগাছ থানার টসার বাজার এলাকার বাঁধসংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আহসান হাবিব অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন কথা বলার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে মন্তব্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবাদ করলে সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
আহসানের দাবি, হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করে। এছাড়া ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
লিখিত অভিযোগে নাঈমুর রহমান নাঈম, সিরাজুল ইসলাম, রমজান আলী, শরীফ মিজান, নিফাত বাবু ও আনোয়ার হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী কয়েকজনকে ঘটনাস্থলেই আটক করে রাখেন। পরে হারাগাছ থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইসলামী আন্দোলনের এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, “সংশ্লিষ্টদের আগে থেকেই কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়াতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা উপেক্ষা করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”
হারাগাছ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অশোক চৌহান বলেন, “ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন চারজনকে আটক করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং তাদের থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপার্থক্য ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, অনলাইন মতবিরোধকে কেন্দ্র করে বাস্তব জীবনে সহিংসতার ঘটনা সমাজে অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।