জমকালো ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে সিলেট বিভাগের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার, পণ্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে হারমোনি ফেস্টিভ্যাল। উৎসব চলবে আগামী ২১ জুন পর্যন্ত। চা-বাগানের সবুজ প্রান্তরে এক ছাদের নিচে মিলেছে সিলেট বিভাগের ২৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, খাবার ও হস্তশিল্প। খাসিয়াদের পান প্রস্তুতি থেকে শুরু করে মণিপুরীদের তাঁতশিল্প, ত্রিপুরাদের কোমর তাঁত, শবর ও মুন্ডাদের নৃত্য-বৈচিত্র্যের এক বর্ণিল আয়োজন নিয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’। শুক্রবার বিকেলে ফিনলে চা বাগানের ফুলছড়া মাঠে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
উৎসবের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাসের রহমান এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তার এনডিসি।
আয়োজকরা জানান, সিলেট বিভাগে বসবাসরত ২৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, জীবনধারা ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরাই এ উৎসবের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতিরও বিভিন্ন অনুষঙ্গ উপস্থাপন করা হবে। আগামী বছর থেকে দেশের সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে একটি প্ল্যাটফর্মে এনে আরও বৃহৎ পরিসরে উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে খাসিয়া জনগোষ্ঠীর পান প্রস্তুতির সরাসরি প্রদর্শনী, ত্রিপুরাদের কোমর তাঁত, মণিপুরীদের তাঁতশিল্প, চা ও রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কুমার সম্প্রদায়ের মৃৎশিল্প তৈরির লাইভ প্রদর্শনী। শ্রীমঙ্গল উপজেলার খাসি, গারো, মণিপুরি, ত্রিপুরা, শবর, খাড়িয়া, সাঁওতাল, ওরাওঁ ও মুন্ডাসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এ উৎসবে তুলে ধরা হচ্ছে। দর্শনার্থীরা ঐতিহ্যবাহী খাবার, হস্তশিল্প প্রদর্শনী ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন। সাংস্কৃতিক আয়োজনে শবর সম্প্রদায়ের পত্য সাওড়া ও চারিয়া নৃত্য, বাড়াইক সম্প্রদায়ের ঝুমুর নৃত্য, মুন্ডাদের মুন্ডারি নৃত্য, মণিপুরীদের রাসলীলা ও পুং চোলম এবং সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ধামাইল নৃত্য পরিবেশিত হবে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’ শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং দেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতিকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।