দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বারখ্যাত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর অংশ খানাখন্দে ভরে গেছে। সড়কের কোথাও পিচ-পাথর একাকার হয়ে জেগে উঠছে টিউমার। আবার কোথাও সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সড়কের দুইপাশ বর্ধিতকরনের নামে খুড়ে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। যা দেখে বোঝার উপায় নেই এটা ব্যস্ততম ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক।
দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা ও বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতকারী হাজার-হাজার যাত্রীরা।
বরিশালের প্রবেশদ্বার গৌরনদী উপজলোর ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে উজিরপুর উপজেলার সীমান্ত পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, অসংখ্য স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক প্রশস্ত করণের নামে কোথাও কোথাও একপাশ আবার কোথাও মহাসড়কের দুইপার্শ্ব কেটে রাখায় অপ্রশস্ত এ মহাসড়কে প্রতিদিনই কোন না কোন দূর্ঘটনা লেগেই রয়েছে।
মহাসড়কের টরকী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা গেছে, সড়কের মাঝখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারনে চরম ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছে যানবাহন। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দারা গর্তেরস্থানে গাছের গুড়ি (লাঠি) পুঁতে চালকদের সতর্ক করেছেন। মহাসড়কের এমন বেহাল দশার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন না করায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কিছু কিছুস্থানে সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে। যেসব স্থানে সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে তা উঁচু-নিচু হওয়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা। আবার কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। কেটে রাখা স্থানের কাজ সমাপ্ত না করে অন্যস্থানের সড়ক বর্ধিতকরণের জন্য খোড়া হচ্ছে। যেকারণে সরু মহাসড়কে চালকদের বেপরোয়াগতি আর আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় প্রতিদিনই দূর্ঘটনা ঘটছে।
এ রুটে চলাচলকারী একাধিক পরিবহনের চালকরা জানিয়েছেন, সরু এ মহাসড়কের বেহাল অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে। সড়কের কোথাও খানাখন্দ আবার কোথাও ঢেউয়ের মত উঁচু-নিচু। যেকারণে মহাসড়ক পার হতে মালবাহী ও যাত্রীবাহী পরিবহনের চাকা গর্তে পরে ইঞ্জিন ও টায়ার-টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ষ্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহাসড়কের মূল অংশের সাথে বর্ধিত অংশ উঁচু-নিচু হওয়ায় কম প্রশস্ত মহাসড়ক দিয়ে ওভার স্পীডে যানবাহনগুলো যাতায়াত করে। তাছাড়া মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী থ্রি-হুইলারগুলো বর্ধিত অংশে না গিয়ে মূল সড়কে চলাচল করছে। যে কারনে ব্যস্ততম এ মহাসড়কে দূর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মহাসড়কটি সম্পূর্ন বর্ধিত করে মেরামত করা হলে এবং চালকদের সচেতন করে তোলা হলে এ মহাসড়কে দূর্ঘটনা কমে আসবে।
বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, মহাসড়কের টরকী এলাকার খানাখন্দ ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে। বাকি খানাখন্দগুলো মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে।