ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরে নিসিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের সময় পুলিশের বাঁধায় পন্ড হয়ে যায়। এ সময় আটক জেলা আওয়ামীলীগের ত্রান ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান বিজুকে পুলিশ আটকের চেষ্টা চালিয়ে ব্যার্থ হয়। মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে বিজুর নিজ বাসভবন আড়পাড়াস্থ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন ও পুলিশের সাথে বিবাদ নিয়ে কথা বলতে চাইলে আওয়ামীলীগের কোন নেতাকর্মী কথা বলতে রাজি হননি । স্থানীয়রা জানান, সকালে শহরের আড়পাড়া এলাকার নিজ বাড়ি নিচতলায় দলীয় অফিসে বসেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগেরবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বিজু। এসময় অনেক নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা ছিল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠিা বার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল করা হবে। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে বাধা দেয়। এসময় পুলিশ মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন নেতাকর্মী ও স্বজনরা পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেন।
বিজুর ছোট ভাই মুস্তাক আহমেদ লাভলু বলেন, ঘটনার সময় বিজু বাড়িতে বসে ছিলেন। অফিসে কোনো দলীয় কার্যক্রম বা নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল না। এ সময় কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল এসে কথোপকথনের একপর্যায়ে তাকে নিয়ে যেতে চায়।
তিনি বলেন, পুলিশকে ওয়ারেন্টের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর না দিয়ে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে বাধা দেন। এক পর্যায়ে বিজু ভাই সেখান থেকে চলে যান। যাওয়ার সময় দায়িত্বরত এক এসআই তার ব্যবহৃত আইফোনটি নিয়ে যান। বর্তমানে আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) জেল্লাল হোসেন।পুলিশকে দেখে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে মোস্তাফিজুর রহমান বিজু দৌড়ে সেখান থেকে চলে যান। তখন তার পকেট থেকে ব্যবহৃত আইফোনটি পড়ে যায়। ফোনটি বর্তমানে আমার কাছে রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে কেউ এ ফোনটি ফেরত দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল নিসিদ্ধ সংগঠনের নেতকর্মীরা কেক কেটে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করবে। সে সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক মেয়রকে আটক করলে স্থানীয়দের বাঁধার মুখে পড়ি। বিশেষ করে মহিলারা বাঁধা দেয়। আমাদের সাথে মহিলা ফোর্স না থাকায় এ পর্যায়ে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।