ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের গৌরবগাঁথা ঐতিহাসিক বিদ্যাপিঠ অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। সরকারি বেসরকারি সকল প্রকার খেলা/ প্রতিযোগিতার স্থান এক সময়ের পরিচ্ছন্ন মাঠটি এখন ডাস্টবিন। দিনদিন ভারী হচ্ছে মাঠের ময়লার স্তুপ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে চারিদিকে। দূর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। সন্ধ্যার পর এটি ট্রাক্টরের গ্যারেজ। আর গভীররাতে মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হচ্ছে। একাডেমিক ভবন সংলগ্ন দক্ষিণে মাঠটির অবস্থান। মাঠের সীমানা ঘেষা পূর্ব পাশে সদরে প্রবেশের সড়ক দক্ষিণ পাশে থানা ভবন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ সব বিষয়ে নীরব।
সরজমিন অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগি সূত্র জানায়, মাঠটির সাথে জড়িয়ে রয়েছে সরাইল সদরের হাজারো ইতিহাস ও স্মৃতি। এই মাঠেই যুগ যুগ ধরে সরকারি বেসরকারি সকল প্রকার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফুটবল ও ক্রিকেটের বড় টুর্নামেন্ট, তফসির মাহফিল, সভা সেমিনারের ভরসাস্থল এটি। জাতীয় দিবসের সকল কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়ে আসছে এখানেই। এলাকার শিশু-কিশোর ও যুবকদের বৈকালিক বিনোদনের জায়গা এটি। এত গুরূত্বপূর্ণ এ মাঠটি এখন অযত্নে অবহেলায় গৌরবময় সকল ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। গত ৩-৪ বছর ধরে মাঠটি হয়ে পড়েছে অভিভাবকহীন। মাঠের পূর্ব পাশে গোলপোষ্ট সংলগ্ন স্থানে নিয়মিত ফেলা হচ্ছে ময়লা। আশপাশের কিছুলোক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রাতে ভোরে সুযোগ বুঝে ময়লা ফেলার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। আরেক পাশে নিয়মিত চলছে প্রস্রাব পায়খানা। মাঠটিই যেন এখন তাদের ডাস্টবিন! ময়লার স্তুপ এখন বিশাল আকৃতি ধারণ করেছে। ছিটিয়ে ছড়িয়ে সমগ্র মাঠে এখন ময়লা। পঁচে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারিদিকে। নাক চেপে ধরে সড়কের এই জায়গা পাড় হচ্ছেন মানুষ। দূষিত হচ্ছে ওই এলাকার পরিবেশ। রোগাক্রান্ত হচ্ছে সড়কে চলাচলকারী শিশু শিক্ষার্থীরা। সামান্য বৃষ্টি হলে অরক্ষিত এই খেলার মাঠ হালচাষ করা জমির রূপ ধারণ করে। দিনে রাতে মাঠে ট্রাক্টর ট্রাক পিকআপ ও রিক্সা প্রবেশ করে। কেউ কেউ কোম্পানির পণ্য খালাস করেন। মাঠেই চলে ইটা বালু রেখে বিক্রির ধূঁম। সন্ধ্যার পর মাঠটি ট্রাক্টরের গ্যারেজের রূপ ধারণ করে। ইচ্ছেমত মাঠে প্রবেশ করে ট্রাক্টর। চাকা খুলে লাগায়। দেদারছে চলে ট্রাক্টর মেরামতের কাজ। রাত গভীর হলে মাঠের বিভিন্ন জায়গায় বসে মাদক সেবনের আস্তানা। মাঠে ময়লার স্তুপসহ নানা দূরাবস্থা রোধে একেবারেই নীরব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শুভ ও তাসরিফ বলেন, মাঠের ময়লার দূর্গন্ধে আমরা অনেক কষ্টে আছি। প্রথমে নিজেরা পরে এলাকাবাসীকে নিয়ে চেষ্টা করেছি। মানুষের ময়লা ফেলা বন্ধ করতে পারিনি। তবে স্থানীয় কিছু সামাজিক ব্যক্তি ও সাবেক খেলোয়াড়ের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তারা বিভিন্ন ভাবে এ বিষয়ে প্রতিবাদ ও প্রতিকারের চেষ্টা করছেন। সমাজকর্মী মো. রওশন আলী বলেন, ঐতিহাসিক এই মাঠকে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। প্রয়োজনে উনারা উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা নিবেন। এখানে মাদক সেবনের আড্ডা চলবে কেন? একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ এভাবে বেদখল ও অরক্ষিত থাকতে পারে না। ময়লার ভাগাড় বানিয়ে শিক্ষার্থী পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দাদের দূর্ভোগে ফেলেছে। এসব চিত্র দেখলে মনের অজান্তেই হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এস.এম ফরিদ বলেন, ব্যানার ঝুলিয়ে মাইকিং করে মৌখিক ভাবে একাধিকবার বলেও ময়লা বন্ধ করতে পারিনি। মাঠটিকে ডাস্টবিন বানিয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও কেন জানি একেবারে নীরব। আইনি ব্যবস্থা ছাড়া মাঠটি রক্ষা করা যাবে না। ব্যবসায়ি ফয়সাল আহমেদ মৃধা দুলাল বলেন, মাঠটি রক্ষায় অনেক প্রচারণা করেছি। কেউ কথা শুনেন না। আইনগত ব্যবস্থাই শেষ ভরসা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবব্রত দাস বলেন, মাঠের প্রধান ফটকের অভাবে সর্বক্ষণ অরক্ষিত থাকার সুযোগে কিছু লোক মাঠের ক্ষতি করছে। দ্রূততম সময়ের মধ্যেই ফটকের ব্যবস্থা করব। আগামী মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি আলোচনা করব। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি মাঠের বিষয়টি শুনেছি। বাজার কমিটিকে বলেছি স্থানীয়দের সাথে নিয়ে মাঠটি পরিস্কারের ব্যবস্থা করতে। সকলকে নিয়ে আমি পরবর্তীতে বিষয়টি গুরূত্ব সহকারে দেখব।