নীলফামারী সদর উপজেলার চড়াইখোলা বটতলা এলাকায় এ মৌসুমে ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। পুষ্টিগুণ ও ঔষধি গুণসম্পন্ন এই বিশেষ ধানের উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে নতুন আশাবাদ। প্রচলিত ধানের তুলনায় বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় ব্ল্যাক রাইস চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় কৃষকদের। নীলফামারীতে এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে ব্ল্যাক রাইস চাষ করে কৃষকেরা ভালো ফলনের অভিজ্ঞতা পেয়েছিলেন। সরেজমিনে চড়াইখোলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়,কালচে বর্ণের ধানে ভরা ক্ষেতগুলো ইতোমধ্যে কৃষকদের নজর কেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো সার ও কৃষি বিভাগের পরামর্শে ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান,স্বল্প খরচে চাষ করা গেলেও ব্ল্যাক রাইসের বাজারমূল্য সাধারণ ধানের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভের আশা করছেন তারা। কয়েকজন কৃষক আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে এই ধানের আবাদ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্ল্যাক রাইস অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় দেশে-বিদেশে এর চাহিদা বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ধানের সফল চাষাবাদ কৃষকদের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এ বিষয়ে নীলফামারীর অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) জাকির হোসেন জানান, ব্ল্যাক রাইসের ফলন ও বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া হলে এটি নীলফামারীর কৃষিতে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। এ জাতের ধান জেলার অনেক স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে চাষ করছেন কৃষকরা।তবে কৃষকদের উন্নত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ব্ল্যাক রাইস চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। কৃষকদের প্রত্যাশা, উৎপাদিত ব্ল্যাক রাইসের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই চড়াইখোলা অঞ্চলটি ব্ল্যাক রাইস উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।