গুজব প্রতিরোধে সচেতন হতে হবে

এফএনএস
| আপডেট: ২৫ জুন, ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম | প্রকাশ: ২৫ জুন, ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
গুজব প্রতিরোধে সচেতন হতে হবে

ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে আমাদের জীবন যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি সমাজে এক নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে তা হচ্ছে গুজব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে এখন যে কোনো তথ্য মুহূর্তেই হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। এই গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভুয়া খবর, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। ফলে গুজব আর নিছক ভুল তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সামাজিক অস্থিরতা, সামপ্রদায়িক উত্তেজনা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে। বর্তমান বাংলাদেশে দেশের মানুষের অস্থিরতা ও উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দ্বারা সৃষ্ট লাগামহীন গুজব বা ভুয়া তথ্যের স্রোত। একটি ভিত্তিহীন বা বিকৃত তথ্য মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে, যা সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়ার আগেই সমাজে গভীর সংকট, অবিশ্বাস এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভয়াবহ সহিংসতা সৃষ্টি করছে। এই ডিজিটাল যুগের ‘কানকথা’ বা গুজব আজ কেবল সাধারণ আলোচনার বিষয় নয়, এটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি মারাত্মক ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর অভূতপূর্ব গতি। ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, টিকটক বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্লাটফর্মগুলোতে একটি পোস্ট বা বার্তা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে লাখ লাখ মানুষের কাছে ছড়িয়ে যেতে পারে। এই দ্রুত গতির কারণেই গুজবের ডালপালা ছড়াতে কোনো সময় লাগে না। প্রচলিত গণমাধ্যম যেমন সংবাদপত্র বা টেলিভিশন খবর প্রকাশের আগে যে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ধরনের কোনো ‘ফিল্টারিং’ ব্যবস্থা নেই। ফলে, স্বার্থান্বেষী মহল অতি সহজে তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার এখানে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ পায়। এই মহলগুলোর মূল লক্ষ্য থাকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়, সামপ্রদায়িক বিদ্বেষ সৃষ্টি, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা অথবা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে অর্থনৈতিক ফায়দা লোটা। গুজব ছড়ানোর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমাদের অসচেতনতা ও আবেগপ্রবণতা। কোনো তথ্য চমকপ্রদ, ভয়াবহ বা আবেগী হলে আমরা যাচাই না করেই তা শেয়ার করে দিই। অনেক সময় মনে হয়, আমি তো শুধু শেয়ার করলাম, ক্ষতি কী? কিন্তু বাস্তবে এই একটি শেয়ারই গুজবকে বহুগুণ শক্তিশালী করে তোলে। তাই ডিজিটাল নাগরিকত্ব মানে কেবল ইন্টারনেট ব্যবহার করতে জানা সেটা নয় বরং দায়িত্বশীল আচরণ, তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস এবং অনলাইন নৈতিকতা চর্চা করা। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে