বাউফলে বিএনপি-জামায়াত-ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১৫

এফএনএস (কাজল বরণ দাস; পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ২৮ জুন, ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
বাউফলে বিএনপি-জামায়াত-ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১৫

পটুয়াখালীর বাউফলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বিরুদ্ধে বিএনপির মটরসাইকেল মহড়ায়  নিষিদ্ধ সংগঠন   ছাত্রলীগ ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বিএনপি ১০জন নেতা কর্মী আহত হয়েছেন। প্রায় ১৫টি মটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এর আগে বিএনপির ওই মহড়া থেকে আবদুল হাই রিপ্পি নামে এক জামায়াত সমর্থকের ওপর হামলা করা হয়। গতকাল (শনিবার)  রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কালাইয়া বন্দর ও দাশপাড়া বাস স্ট্যান্ড এলাকা এ ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে উপজেলার কালাইয়া বন্দরে  আওয়ামী লীগ বিরোধী মটরসাইকেল মহড়া বের করেন বিএনপি ।  ওই মহড়া থেকে কালাইয়া বন্দরের মোল্লা মার্কেটের সামনে রিপ্পি নামে এক জামায়াত সমর্থকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণ  কালাইয়া ইউনিয়ন  জামায়াত  ও শিবিরের নেতা কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে মো. বায়জিদ ও তামিম নামে দুই ছাত্রদল কর্মীর ওপর হামলা করে এবং মটরসাইকেল ভাঙচুর করে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালাইয়া থেকে বিএনপির মটরসাইকেল বহর বাউফল পৌর শহরে যাওয়ার পথে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে  নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও জামায়াতের হামলা করেন। এসময় কুপিয়ে ও পিটিয়ে বিএনপির প্রায় ১০জন নেতাকর্মীকে আহত করা হয়। ভাঙচুর করা হয় প্রায় ১৫টি মটরসাইকেল। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে মো. আল মামুন (৪০), মো. কাওছার (৩৫) ও মো. মাকসুদুর রহমান (২৮) নামের তিন ব্যক্তিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।  উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, কালাইয়া নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হচ্ছে এমন খবর পেয়ে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে  আমরা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা  বিক্ষোভ মিছিল বের করি। ওই মিছিলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও জামায়াতের লোকজন অতর্কিতভাবে হামলা করে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আহত করেন এবং ১৫টি মটরসাইকেল ভাঙচুর করে।  জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়,  রিপ্পি নামে এক জামায়াত কর্মীর ওপর বিএনপির নেতা কর্মীরা হামলা করে। পরে দাশপাড়া এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগ হামলা করছে। সে ঘটনার সাথে জামায়াতের কোনো সম্পৃক্তা নেই।  এ বিষয়ে আবদুল হাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর এক স্বজন দাবি করেন, কোনো কারণ ছাড়াই আবদুল হাইয়ের ওপর হামলা চালানোকে কেন্দ্র করে ফের হামলার ঘটনা গটেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,আবদুল হাই রিপ্পির বাবা মরহুম আবদুস ছালাম প্যাদা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও আবদুল হাই এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন,‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে