সুন্দরগঞ্জে স্বাস্থ্য সেবায় বেহাল চিত্র , ১৩৬ পদ শূন্য, স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত

এফএনএস (মোঃ ইমদাদুল হক; সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা) :
| আপডেট: ২৮ জুন, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম | প্রকাশ: ২৮ জুন, ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম
সুন্দরগঞ্জে স্বাস্থ্য সেবায় বেহাল চিত্র , ১৩৬ পদ শূন্য, স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত

জনবলসহ নানা সংকটে ৫০ শয্যার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে. ইউনিয়ন ও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও কর্মচারীর প্রায় সবগুলো পদ শুন্য। এমনকি দীর্ঘদিন হতে নেই অ্যাম্বুলেন্স চালক। অস্ত্রোপচারের কক্ষ থাকলেও এর সুবিধা পাচ্ছেন না রোগীরা। হাতেগোনা কয়েকজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে অন্তত ৮ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা। 

হাসপাতালের পরিসংখ্যান সূত্রে জানা গেছে, পনেরো ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার  মধ্যে ৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ৭টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ৬২টি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪৬টি পদের বিপরীতে ৩৩৩টি মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১৩৬টি পদ শুন্য। পনেরো ইউনিয়নে ১৫ জন মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ ১৫ ইউনিয়নে ১৭ জন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স চালকের মঞ্জুরিকৃত পদ থাকলেও সেখানে একজনও মেডিকেল অফিসার, সার্জন ও উপ-সহকরী কমিউনিটি মেডিকেল ও অ্যাম্বুলেন্স চালক নেই। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচারের সেবা বন্ধ থাকায় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২২ জুলাই মাস থেকে অ্যাম্বুলেন্স চালকের পদ শুন্য। ফলে কম খরচে অ্যাম্বুলেন্সের সেবা  থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো রোগী। অধিক ভাড়া দিয়ে বেসরকারি মালিকানা অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসে রোগীদের অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে করে গড়ে প্রতিমাসে শতাধিক রোগী অ্যাম্বুলেন্স সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। সেই সাথে সরকার রাজস্ব হতে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি সচল ও একটি অচল অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সুন্দরগঞ্জ থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভাড়া দিতে হয়, ১ হাজার ১২০ টাকা। অথচ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে দিতে হচ্ছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা।

স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. জোবাইদুর রহমান বলেন. দীর্ঘ তিন বছর ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স দু’টি পড়ে রয়েছে, দেখার কেউ নেই। একটি মাঝে মাঝে চলে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ হতে ৭ রোগী এখান থেকে রংপুরে স্থানান্তর করে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অধিক ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাসে রোগী রংপুরে নিয়ে যায় রোগীর স্বজনরা। এই যদি হয় একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থা, তাহলে মানুষ কোথায় যাবে। তিনি আরও বলেন হাতেগোনা কয়েকজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা। এছাড়া রোগীদের খাবার মান ও পরিস্কার পরিছন্নতা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে কর্তাদের বিরুদ্ধে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগী মো. সেলিম মিয়ার বলেন, এখানকার ল্যাট্রিনগুলো ব্যবহার করা যায় না। পানিয় জলের অভাব, নলকুপগুলো নষ্ট, খাবার মান একবারেই খারাপ। প্রায় সব ওষুধ বাহির থেকে কিনতে হয়। তিনি আরও বলেন দুইদিন চিকিৎসা করার পর সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায়  অধিক ভাড়া দিয়ে বেসরকারি মালিকানা অ্যাম্বুলেন্সে করে তার ভাইকে রংপুরে পাঠিয়েছেন। 

ছাপড়হাটী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় সুমন মিয়ার বলেন, এখানে একজন মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে। বছরের পর বছর চলে যাচ্ছে কোন দিন এখানে মেডিকেল অফিসারকে আসতে দেখি নাই। মাঝে মাঝে ওয়ার্ড বয়, কোন সময় পিয়ন ওষুধ বিতরণ করে থাকেন। এলাকাবাসীর দাবি বরাদ্দকৃত ওষুধ সমুহ কোথায় যাচ্ছে। কাপাসিয়ার দূর্গম চর কালাইসোতা গ্রামের আনছার আলীর বলেন, শুধু শুনেছি গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্য সহকারি রয়েছে। কিন্তু কোনদিন দেখি নাই। কমিউনিটি ক্লিনিকে মাঝে মাঝে ওষুধ সরবরাহ করে থাকে। এছাড়া নদীতে ভাসামান হাসপাতাল এসে  মাঝে মাঝে ওষুধ দিয়ে যায়। স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. জুলফিকার ্আলী সরদার চন্দ্রন বলেন, অনেক স্বাস্থ্য সহকারি অবসর গ্রহন করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত নতুন করে কোন প্রকার জনবল নিয়োগ হয়নি। সে কারনে অসংখ্য পদ শুন্য আছে। নতুন করে জনবল নিয়োগ না দেয়া পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধান হবে না। এটি উপর মহলের ব্যাপার, এখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করার কিছুই নাই। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার দিবাকর বসাক বলেন, অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারসহ বেশির ভাগ মেডিকেল অফিসার, সহকারি সার্জন, উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে। তবে তাঁর গাড়ি চালক বেশিরভাগ সময়ে অ্যাম্বুলেন্সটি চালান।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে