খুলনার পাইকগাছায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং এ জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। লেখাপড়া, ব্যবসা বাণিজ্যসহ বিদ্যুতায়িত সকল কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে। জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। লোডশেডিং এর কারণ জানতে চাইলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একটাই জবাব এটা জাতীয় এবং ৩৩ কেভির সমাস্যা। উপজেলার সর্বত্রই গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। কোন কোন সময় চোখের পলকে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। যাতে কোন কোন গ্রাহকের ইলেকট্রনিক জিনিষপত্রও নষ্ট হচ্ছে। কয়েকদিন যাবৎ কোন লাগাতার ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং লেগেই আছে। বিশেষ করে দুপুরে ও মাগরিবের নামাজ শুরুর আগেই ৫-৭ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকেনা। এক প্রকার রুটিন হয়ে দাড়িয়েছে। প্রচন্ড গরমে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছাত্রছাত্রীরা বইয়ে টেবিলে বসতে পারছেন না। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বেচাকেনা কমে গেছে এমনটি জানালেন, কাপড় ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান। পাইকগাছা বাজারের ইলেকট্রনিক ম্যাকানিক সুব্রত জানালেন বিদ্যুতের কারণে টিভি, ফ্যানসহ কোন কিছু মেরামত করতে পারছিনা। লোকজন ঝামেলা করছে খুব। সব থেকে বিপাকে পড়েছেন হিমায়িত চিংড়িজাত দ্রব্যের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা। আকাশে মেষ করলে কিংবা সামান্য বাতাস হলেই বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা একটা নিয়মে পরিনত করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগ। উপজেলা জোনাল বিদ্যুৎ অফিসের প্রকৌশলী আমিনুর রহমান জানান, প্রচন্ড গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে কিন্তু সেভাবে উৎপাদন বাড়েনি। সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে।
পাইকগাছা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, পাইকগাছায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ মেগাওয়ার্ট। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ৫ মেগাওয়ার্ট। ঘাটতি ১৩ মেগাওয়ার্ট। কোন কোন সময় সরবরাহ থাকে মাত্র ২ মেঘাওয়ার্ট। আমরাও চাই নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে কিন্তু কোনভাবে সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকসহ সর্বসাধারণের গালমন্দ শুনতে হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ হলে এসমাস্যা আর থাকবে না। পাইকগাছা-কয়রায় ভয়াবহ লোডশেডিং নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাওঃ আবুল কালাম আজাদ মহান জাতীয় সংসদে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। তাছাড়া তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।