গোদাগাড়ীতে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

এফএনএস (মোঃ আব্দুল বাতেন; গোদাগাড়ী, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ২৯ জুন, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
গোদাগাড়ীতে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৪ নং রিশিকুল ইউনিয়নের মাণ্ডইল গ্রামে গ্রামীণ রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়ার শ্রী উজ্জলের বাড়ি হতে খাটাম পাড়া মসজিদ পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা পাকা করণের এই কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে মোস্তাফিজুর রহমান হিমেল অভিযোগ করে বলেন, "আমাদের গ্রামে যে কাজ হচ্ছে তার কোনো স্বচ্ছ ধারণা আমরা পাচ্ছি না। কাজের বিষয়ে কোনো কিছু জানতে গেলে চেয়ারম্যান বা মেম্বাররা আমাদেরকে কিছুই জানান না।" কাজের মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, "রাস্তার কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের ২ নং ও ৩ নং ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ইট, বালু ও সিমেন্টের মিশ্রণও খুবই নিম্নমানের।" জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে রাস্তাটির পরিমাপ করা হলেও মাত্র দিন দশেক আগে ৭০-৮০ ফিট হিয়ারিং বা এইচবিবি (হেরিং বোন বন্ড) পাকা করণের কাজ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে সিংহভাগ টাকাই লোপাটের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহাবুবুর রহমান টিটু জানান, এটি এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) অর্থায়নের অধীনে রাস্তা এইচবিবি পাকা করণের কাজ। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, "ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী অফিসার) অফিস থেকে আমাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে সরজমিনে কাজ দেখে এ বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবো।" যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোমিনুল হক অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। শুধু এই একটি কাজই নয়, ওই ইউনিয়নে চলমান যতোগুলো উন্নয়ন কাজ আছে, আমি নিজে সবগুলো সরজমিনে পরিদর্শনে যাবো এবং কাজের মান যাচাই করবো।" এদিকে প্রকল্পের অনিয়ম ও স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মেসেজ পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। রাস্তার কাজ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে যেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সরজমিনে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং টেকসইভাবে রাস্তার কাজটি সম্পন্ন করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে