ভোটের রায়ের পর রাজপথে আগুন

সীতাকুণ্ডে নেতা-কর্মীদের আবেগ ও ত্যাগের অগ্নিপরীক্ষা

এফএনএস (জহিরুল ইসলাম; সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম) : | প্রকাশ: ২ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৬ এএম
সীতাকুণ্ডে নেতা-কর্মীদের আবেগ ও ত্যাগের অগ্নিপরীক্ষা

উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক একটি রায়কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ক্ষোভের এক অভূতপূর্ব বিস্ফোরণ ঘটেছে। রায়ের পরপরই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম সিটি গেইট থেকে শুরু করে বড়দারোগারহাট পর্যন্ত অন্তত ২০টি পয়েন্টে বিক্ষুব্ধ জনতা ও বিএনপির তৃণমূলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী যুগপৎভাবে রাজপথে নেমে আসেন। তারা মহাসড়কের পিচঢালা রাজপথে টায়ার জ্বালিয়ে, গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং ব্যারিকেড তৈরি করে দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক অবরোধ করে রাখেন। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সংকটময় মুহূর্ত থেকে শুরু করে বিগত স্বৈরাচার বিরোধী তীব্র গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দিনগুলোতে বছরের পর বছর ধরে চলা অবর্ণনীয় ত্যাগ, মামলা-হামলা আর রাজপথের মরণজয়ী লড়াইয়ের পুঞ্জীভূত বেদনার প্রেক্ষাপট থেকেই তৃণমূলের এই মরণপণ দ্রোহের চিত্র ফুটে উঠেছে। এ সময় বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লায়ন আসলাম চৌধুরীকে ঘিরে স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক গভীর আবেগ, পরম বিশ্বস্ততা ও নিঃশর্ত সমর্থনের চিত্র দেখা যায়। মহাসড়কের উত্তাল আগুনের লেলিহান শিখার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনীতিতে যখন আইনি মারপ্যাঁচ আর ক্ষমতার কঠিন সমীকরণ সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে যায়, ঠিক তখনই মাঠের কর্মীরা তাদের নেতার অভিভাবকত্বের মর্যাদা দিতে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। ২০১৬ সালে এক বিতর্কিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ প্রায় নয়টি বছর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটানো এবং ৭৬টিরও বেশি মামলার অবর্ণনীয় নির্যাতন সহ্য করেও আসলাম চৌধুরী কখনো তাঁর মাঠের কর্মীদের ভুলে যাননি। বন্দি থেকেও অত্যন্ত বিশ্বস্ত মাধ্যমে আইনজীবীদের খরচ জোগানো, হামলা-মামলায় জর্জরিত নিঃস্ব কর্মী পরিবারগুলোর চিকিৎসা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়া এবং কারামুক্তির পর বহু কর্মীকে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ার পেছনে তাঁর যে নীরব অবদান ছিল, সীতাকুণ্ডের মানুষ আজ রাজপথে নেমে তারই সরাসরি জবাব দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক আদালতের রায়ের পর তাঁর সংসদীয় আসন ও রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতার চেয়েও তৃণমূলের কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছে তাদের শেষ আশ্রয়স্থলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত ঋণখেলাপির বিষয়টিকেও মাঠের কর্মীরা ভিন্ন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন, তাদের স্পষ্ট দাবি, তিনি যদি আজ ঋণের জালে জড়িয়েও থাকেন, তবে তা কোনো ব্যক্তিগত বিলাসিতা বা আয়েশের জন্য নয়, বরং দীর্ঘ এক দশক ধরে সীতাকুণ্ডের হাজার হাজার কর্মীর আইনি লড়াইয়ের ব্যয়ভার বহন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সচল রাখার এক ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ লাখ ৪২ হাজারের বেশি জনগণের রায় নিয়ে রাজকীয় ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পরও যখন আইনি মারপ্যাঁচে তাঁর পথ অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়, তখন মাঠের কর্মীদের মনে জমে থাকা দীর্ঘদিনের অভিমানই মহাসড়কে আছড়ে পড়ে, যা কেবল কোনো তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ ছিল না, বরং নেতার অবর্ণনীয় ত্যাগের বিপরীতে তৃণমূলের এক পরম অগ্নিপরীক্ষা। রাজপথের রক্ত ও ঘামে গড়ে ওঠা আসলাম চৌধুরী নামক যে অনন্য কর্মী-বান্ধব ভাবমূর্তি সীতাকুণ্ডের মানুষের হৃদয়ে খোদাই করা আছে, তা মুছে ফেলার সাধ্য কোনো আইনি জটিলতার নেই এবং এটাই সীতাকুণ্ড বিএনপির তৃণমূলের সবচেয়ে বড় ও বাস্তব না-বলা সত্য।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে