পুঠিয়ায় পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ব্যাপক অনিয়ম গাফিলতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা (তওশিদার) স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে সকল প্রকার জমি সংক্রন্ত কাজগুলি করে থাকেন। দালাল বাদে অন্য কোনো ব্যক্তি জমির কাজ করতে গেলে কর্মকর্তা মাসের পর মাস বিভিন্ন অজুহাতে দেখায়ে হয়রানি করার একাধিক নজির রয়েছে। অফিস চলাকালীন সময়ে কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আফান এবং দলিল লেখক তাহের আলি নামের দালাল অফিসের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নতিপত্র ঘাটাঘাটি করতে দেখা গিয়েছে। স্থানীয় সারোয়ার হোসেন জিম ও আব্দুল মালেক নামের ভুক্তভোগিরা বলেন,এই ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো সেবা মূলক কাজ করা হয় না। হোল্ডিং খোলা,জমি সংক্রন্ত তথ্যসংগ্রহ, নামজারিসহ বিভিন্ন সরকারী নির্ধারিত ফির বাইরে দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার ভিডিও এফএনএসর নিকটে রয়েছে। অপর ভুক্তভোগী কালাম হোসেন বলেন, জমি কিনার আগে জমির সকল তথ্য সংগ্রহ করার জন্য অফিসে গেলে,অফিস সহায়ক রহিমা খাতুন ও রতন কুমার রাম তার নিকট ১ হাজার টাকা উপঢোকন দাবি করেন। টাকা না দিলে নির্ধারিত সময়ে কাজ হবে না বলে জানায়। অনলাইনে নামজারির আবেদনের পরে প্রাথমিক জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই তথ্য ইউনিয়ম ভূমি অফিস দিয়ে থাকেন। পরবর্তীতে তথ্য সম্পূর্ণ হলে উপজেলা ভূমি অফিসে পাঠানো হয়ে থাকে। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তাওশিলদার) সুফি এবরার আহমেদ বকসী দালাল জাকির হোসেনের মাধ্যমে নামজারি করার জন্য ১০ হতে ১২ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। জাকির হোসেন অফিসের চাকরি করেন না। কিন্তু সে প্রতিনিয়ত অফিসের উপস্থিত থেকে উন্নয়ন খাতে কর্মরত আছেন বলে দাবি করে অফিসে গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু কাজকর্মগুলো করছেন। এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্ত (তাওশিলদার) সুফি এবরার আহমেদ বকসী বলেন, আমি কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত নেই। টাকার বিনিময়ে জমির কাজ করার বিষয়ে স্বীকার করে তিনি বলেন,আমার অফিসে দুইজন সহায়ক রয়েছে। তাদের ঘুষ নেওয়ার ব্যাপারে সাবধান করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ বলেন,অফিসের ভেতর বাহিরের লোকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখার কোনো সুযোগ নেই। কোনো কর্মকর্তা অফিসে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দেখায়ে থাকেন। তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আমি ইতোমধ্যে দ্ইুজন সহায়ককে বদলি করা সুপারিশ করেছি।