ময়মনসিংহে প্রেম গঠিত কারণে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আকাশ হত্যা মামলায় দুই জনের মৃত্যুদন্ড ও দুই জনের ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২জুলাই) দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক মো. শামছউদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিজ্ঞ বিচারক আসামী এনামুল হক ও নাজমুল হককে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন এবং ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। আসামী এনামুল হক পলাতক রয়েছেন। এই মামলায় জিয়াউল হক, জুলহাস উদ্দিনকে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। অনাদায়ে আরো ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশ একই ক্লাসের শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তারের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী জেসমিনের পিতা জিয়াউল হক কোনভাবেই প্রেমের বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে পরিকল্পিতভাবে প্রেমিকা জেসমিন আক্তার মোবাইলে আকাশকে দেখা করতে তার বাড়ীতে ডেকে নেয়। আকাশ সরল বিশ্বাসে জেসমিনের সাথে দেখা করতে তাদের বাড়ীতে যায়। ঐ রাতে আকাশ বাড়ীতে না ফেরায় তার বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুজি করেও পাওয়া যায়নি। ঘটনার দুদিন পর লোকজন জেসমিনের বাড়ীর কাছেই বাঁশ ঝাড়ে টয়লেটের সামনে আবর্জনা ফেলার গর্তের মধ্যে রক্ত মিশ্রিত মাটি দেখতে পায়। আকাশের বাবা এই সংবাদ পেয়ে পরিবারের অন্যান্য লোকজদেরকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুরে পচা গলা অবস্থায় গলাকাটা জবাই করা একটি মৃতদেহ উত্তোলন করে। পরে এই লাশটি আকাশের বলে সনাক্ত করে তার বাবা।
এ ঘটনায় পরদিন ২২ মে আকাশের বাবা আকরাম হোসেন কোতোয়ালী মডেল থানায় জিয়াউল হক, জুলহাস উদ্দিন, এনামুল হক, নাজমুল হক, নেজামুল হক, রুমান, হযরত আলী, আনিছ, আব্দুল লতিফ, অজুফা, রুজিনা, নার্গিস, রাহাতুল জান্নাত ও জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করেন। সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহন, বিচার-বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা শেষে অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। এ মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে এ্যাডভোকেট মো. আবু হানিফ খান এবং আসামীদের পক্ষে এ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম খান মামলা পরিচালনা করেন।