সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন ডিউটিরত বেসরকারি নার্সিং কলেজের একাধিক ছাত্রীকে ইভটিজিং ও অশোভন আচরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ড বয় (আউটসোর্সিং স্টাফ) এবং ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজন ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, বুধবার (১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের আউটডোর ভবনের নিচতলায় সার্জিক্যাল মাইনর অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) ড্রেসিং রুমে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, সুরমা নার্সিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদ (২১), আল-আমিন নার্সিং কলেজের ছাত্র রবিউল আউয়াল শুভ (২৩) এবং ওয়েসিস নার্সিং ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা ইন নার্সিংয়ের শিক্ষার্থী প্রীতম রঞ্জন দাস (২৩)। তারা বর্তমানে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ইন্টার্ন ডিউটিতে থাকা বেসরকারি নার্সিং কলেজের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে হাসপাতালের আউটসোর্সিং স্টাফ জামাল ও অঞ্জন সরকার দীর্ঘদিন ধরে অশোভন আচরণ ও ইভটিজিং করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি ভুক্তভোগীরা ইন্টার্ন অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের জানালে বুধবার কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে নার্সিং স্টাফ মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলতে যান। এ সময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ওয়ার্ড বয় জামাল উত্তেজিত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের সময় মাইনর ওটির কাচ ও বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থী আহত হন। ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জামাল ও অঞ্জন সরকার দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র-ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত ও অশালীন মন্তব্য করে আসছিলেন। বিষয়টি আগেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ একই ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তারা হামলার শিকার হন। ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ইন্টার্ন নার্সিং শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন এবং হাসপাতালের পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেন। তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হাসপাতালের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) ডা. মোহাম্মদ বদরুল আমিন বলেন, "ঘটনার পরপরই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।"