দিঘলিয়ায় খেয়াঘাটের দুই পারে টোল আদায়ে দুই সাব ইজারাদার

এফএনএস (সৈয়দ জাহিদুজ্জামান; দিঘলিয়া, খুলনা) : | প্রকাশ: ৪ জুলাই, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
দিঘলিয়ায় খেয়াঘাটের দুই পারে টোল আদায়ে দুই সাব ইজারাদার

দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর বাজার খেয়াঘাটের দুই পারে দুই সাব ইজারাদার বসে টোল আদায় করছে। ফলে সাধারণ পারাপার যাত্রীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। অপর দিকে এ ঘাটকে কেন্দ্র করে শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা করছে এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, খুলনা বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদার মোঃ আকবর হোসেন। তিনি বারাকপুর বাজার খেয়াঘাটটি বারাকপুর ইউনিয়নের বারাকপুর গ্রামের আঃ রহমান শেখের পুত্র মোঃ ইয়াজুল শেখ ঘাটটি ইজারাদার মোঃ আকবর হোসেনের কাছ থেকে চুক্তিপত্র সম্পাদন করে ১৩ লক্ষ টাকা অগ্রীম দিয়ে সাব ইজারা গ্রহণ করেন। ঘাটটি ইজারা নেওয়ার পর থেকে নানা প্রতিষ্ঠানের ইজারাদার ও সাব ইজারাদারদের দৌড়ঝাপ মোকাবিলা করে সে ঘাটের বৈধ সাব ইজারাদারের অবস্থান ঠিক করেন। এ সকল বিরোধ মোকাবেলা করতে গিয়ে তার কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সাব ইজারাদার ইয়াজুল এ প্রতিবেদককে জানান। 

ইয়াজুল এ প্রতিবেদককে আরো জানান,  তিনি আকবর হোসেনকে নগদ এককালীন ১৩ লক্ষ টাকা এবং মাসিক ৩ লাখ ২৫ হাজার করে এক বছরের ভাড়া বাবদ আগ্রীম ১৩ লক্ষ টাকা মোট ২৬ লক্ষ টাকা অগ্রীম এবং মাসিক টাকা বাবদ পরিশোধ করেছি। তারপরও আকবর হোসেন তাকে অগ্রীম না জানিয়ে আমার অজান্তে গত ৩০/০৬/২৬ ইং খুলনা নগরীর খানজাহান আলী থানার মীরেরডাঙ্গা নিবাসী মোঃ কামাল হোসেনের পুত্র সিয়াম হোসেনের সাথে চুক্তি করে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছেন। এমনকি উক্ত সিয়ামগং ইয়াজুলকে ঘাট ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন এবং নানা ধরণের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করছেন। শুধু তাই নয় গত শনিবার (৪ জুলাই) সকাল থেকে প্রতিদিনের ন্যায় সাব ইজারাদার ইয়াজুল বারাকপুর পারে বসে টোল আদায় করছেন। পক্ষান্তরে সিয়ামের লোকজন দিঘলিয়ার সাকিবের নেতৃত্বে বারাকপুর ঘাটের শহর পারে বসে টোল আদায় করছে। এতে করে ঘাট মাঝি ও সাধারণ পারাপার যাত্রীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। ইয়াজুল আরো জানান, তিনি ঘাট ইজারা নেওয়ার পর থেকে একাধিক ব্যক্তিকে বারাকপুর বাজার খেয়াঘাটের সাব ইজারা ও ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে আমার বারবার অর্থদন্ড দিচ্ছেন মোঃ আকবর হোসেন। তিনি এভাবে হয়রানি ও ঘাটের প্রতিকার চেয়ে দিঘলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ব্যাপারে ঘাটের পশ্চিম পারে বসে টোল আদায়কারি সাকিব বলেন, ইজারাদার আকবর হোসেন আমাদের ওয়ার্ক অর্ডার দিয়েছেন আমরা টোল আদায় করছি। আকবর হোসেন আমাদের টাকা ফেরত দিয়ে ইয়াজুলকে ঘাট দিলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। ঘাটের নতুন সাব ইজারাদার সিয়ামও বলেছেন আকবর হোসেন বসে সমাধানের পক্ষে। তিনি যাকে ঘাট দেওয়ার দিবেন। আমাদের মাঝে কোনো বিরোধ নেই। এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদার মোঃ আকবর হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান, আমি অন্য কাউকে লিখিতভাবে ঘাট দিইনি। ইয়াজুলকে আমি ঘাট দিব। একদিন অপেক্ষা করতে বলেন। আমি খুলনা এসে সবাইকে নিয়ে বসে সবকিছু সমাধান করব। আমি সিয়ামের নিকট থেকে যে টাকা নিয়েছি প্রয়োজনে ফেরৎ দিব। এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষের সাংবাদিকদের মাধ্যমে খুলনার প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনপ্রতিনিধির জোর দাবী খুলনার ভৈরব নদের বারাকপুর খেয়াঘাটটির ইজারাদার ও সাব ইজারাদার নিয়ে বারবার যে সমস্যা সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে তার স্থায়ী সমাধান হোক।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে