আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে আদালতের রায়কে অমান্য করে জমির মালিক পক্ষকে জমি দখলে বাধা দানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে মালিক পক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
জমির মালিক করিমন নেছার ছেলে মাকসুদুর রহমান জানান, তার নানী কাকবাসিয়া গ্রামের মৃত হাজী নেয়ামত আলী গাজীর স্ত্রী ছবিজান বিবি ৫/১০/৯৩ তাং আশাশুনি সাব রেজিষ্ট্রী অফিসে ৪০৪৯/৯৩ নং দানপত্র দলিলের মাধ্যমে তার ৭ কন্যা রোজিনা খাতুন, জামিলা খাতুন, ছালেহা খাতুন, রেহেনা পারভিন, করিমন নেছা, তহমিনা খাতুৃন ও আবেদা খাতুনকে কাকবাসিয়া মৌজায় ২.৭৬ একর জমি দান করেন। যার বিআরএস ১৬২ নং খতিয়ান, দাগ নং ৮৮৬, ৮৬৪ ও ৮৬৬। প্রিন্ট পর্চা ও চেক দাখিলা কেটে তারা শান্তিপূর্ণ দখলিকার ছিলেন। এক পর্যায়ে মৃত কেরামত আলী গাজীর ছেলে হাবিবুল্লাহ (মোবারক গাজী) দিং ষড়যন্ত্র করতে থাকলে দানপত্র গ্রহিতাদের পক্ষে তিনি (করিমন নেছার ছেলে মাকসুদুর রহমান দিং) আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেন। শুনানি শেষে চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুছ বাদীদের পক্ষে রায় দেন। খাজরা ইউনিয়ন জামায়াত আমীর হারুনর রশিদ এর কাছে অভিযোগ করকরলে শালিস ককরে চেয়ারম্যানের রায়কে অবমাননা করে হাবিবুল্লাহ ওরফে মোবারক দিং ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী ঐ জমির মধ্যে ৯৫ শতক জবর দখল করে নেন। বাধ্য হয়ে জমির মালিক পক্ষ অতিঃ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সাতক্ষীরায় পি-৩৯৩/২৫ নং মামলা করেন। বিজ্ঞ আদালত ২৫/০১/২৬ তাং বাদীদের পক্ষের অনুকুলে রায় প্রদান করেন। জবর দখলকারীরা রায়ের ভিত্তিতে জমিতে উৎপাদিত ধান (রাজ ভাগ) বাদী পক্ষকে প্রদান করেন। বাদী পক্ষ বিজ্ঞ আদালতের রায়ের উপর ভিত্তি করে জমির দখল নিয়ে কাপসন্ডা গ্রামের মোহাম্মদ আলী গাজীকে ৩ বছর মেয়াদী (২০২৬-২০২৮) জমি ডিড প্রদান করেন। লিখিত ডিডে বিএনপি নেতা ও সাংবাদিক বোরহান উদ্দীন বুলুসহ কয়েকজন স্বাক্ষী অছেন। গত ২৫ জুন ডিড গ্রহিতারা জমিতে মাছ চাষের জন্য বাঁধ দিতে গেলে হাবিবুল্লাহ (মোবারক গাজী) দিং লোকজন নিয়ে বাধা প্রদান করেন। বাধ্য হয়ে বিষয়টি আশাশুনি থানায় অবহিত করা হলে এসআই আনজীর উভয় পক্ষকে ২ জুলাই থানায় হাজির হতে নির্দেশ করেন। বাদী পক্ষ হাজির হলেও বিবাদীরা হাজির হননি। সন্ত্রাসী স্টাইলে জমি জবর দখল, জমির মালিক পক্ষকে নানাভাবে হুমকী ধামকী, আইন আদালত অমান্য করা, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের মতামত অবজ্ঞা করার ঘটনা এবং বছরের পর বছর অধিকার বঞ্চিত করায় জমির মালিক পক্ষ অসহায় ও নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছেন। তারা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও আইন আদালতসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এব্যাপারে হাবিবুল্লাহ (মোবারক গাজী) এর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে এসআই আনজীর জানান, উভয় পক্ষকে হাজির হতে বলা হলেও বিবাদীরা হাজির হয়নি। বাদী পক্ষকে বিজ্ঞ আদালতের রায় মেনে চলতে বলা হয়েছে।
আরও উল্লেখ্য যে, বিবাদীরা একই ভাবে কাকবাসিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রেকর্ডীয় ৪৩ শতক জমি দীর্ঘ ২২ বছর অবৈধ দখল করে আছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে আনুলিয়া ইউনিয়র ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে "আবেদিত সম্পত্তি বিবাদী পক্ষ দীর্ঘদিন যাবৎ জবর দখলে আছেন। যার কারনে স্কুলের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। যাহা আদায়যোগ্য" মর্মে মতামত জানিয়ে গত ১০/০৩/২৬ তাং প্রতিবেদন দিয়েছেন।