মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাজিদকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ জুলাই) রাত তিনটার দিকে উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের পৈক্ষারপাড় নয়াকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সাজিদ একই গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে। এর আগে, ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
গজারিয়া থানা সূত্রে জানা যায়,মামলা দায়েরের পরপরই তৎপর হয়ে ওঠে গজারিয়া থানা পুলিশ। আত্মগোপনে থাকা মূল অভিযুক্ত সাজিদকে ধরতে সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালানো হয় এবং রাত তিনটার দিকে তাকে নিজ গ্রাম থেকেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভুক্তভোগীর ভাইয়ের দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলায় সোমবার রাত তিনটার দিকে আমরা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সাজিদকে গ্রেপ্তার করেছি। সকালে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।’ এদিকে মূল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল। তারা এই অপরাধের সাথে জড়িত এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার ভবেরচর ইউনিয়নের পৈক্ষারপাড় নয়াকান্দি গ্রামে প্রতিবেশী এক যুবকের ধর্ষণে ওই কিশোরী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। তবে এই ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম আসায় বিষয়টি একক নাকি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র বিচারের আশ্বাস দিয়ে কিশোরীর জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করাসহ নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিল। অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয়।