শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ২নং ধানশাইল ইউনিয়নের চাপাঝোড়া গ্রামের সাহাতি নদী আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। প্রাচীনকালের এই নদীটি ভূমিদস্যুেদর কবলে পড়ে প্রায় বিলুপ্তির পথে। দখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার, নদী পুনঃখনন এবং দুই তীরে বাঁধ নির্মাণের দাবিতে সরব হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।
চাপাঝোড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম জানান, এই নদীটি ঝিনাইগাতী উপজেলা সংলগ্ন হয়ে উত্তরের পাহাড়ি ঢলের পানির অন্যতম উৎস। কিন্তু বর্তমানে ভাটির দিকে পানি নিষ্কাশনের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। নদীর দুই তীরের বিপুল পরিমাণ জমি ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। অনেকে গাছপালা রোপণ করে নদীর দুপাশের বহু জমি জবরদখল করেছেন। দ্রুত নদীটি খনন ও বেদখল হয়ে যাওয়া জায়গা দখলমুক্ত করা না গেলে এক সময়কার ঐতিহ্যবাহী সাহাতি নদী তার অস্তিত্ব হারাবে। এছাড়াও, নদীর উজানে বন্যার সময় পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত এই নদীপথেই প্রবাহিত হয়। কিন্তু নদীর দুই তীরে কোনো বাঁধ না থাকায় প্রতি বছরই বাড়িঘর ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়। গত দুই বছর ধরে সাহাতি নদীর উত্তর পাশে বন্যার ভাঙনের কারণে প্রায় ৪০-৫০ ফুট জায়গা বালিতে পরিণত হয়েছে। যা প্রায় ১০০-১৫০ একর ফসলি জমিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। অনতিবিলম্বে বাঁধ নির্মাণ করা না হলে আসন্ন আমন মৌসুমে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এলাকার সাধারণ কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে সাহাতি নদীর দুই তীরে বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার, নদী পুনঃখনন এবং দুই তীরে বাঁধ নির্মাণ করে চাপাঝোড়া এলাকাবাসীকে এই বহুমুখী সমস্যা থেকে রেহাই দিতে সরকারি হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয়রা মনে করছেন, সরকারের দ্রুত পদক্ষেপই পারে এই প্রাচীন নদীকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং এলাকার কৃষকদের জীবনযাত্রাকে স্বাভাবিক করতে।