রাজশাহীর বাঘায় ১৮ মে দিবাগত রাতে নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তরা স্বপন বেপারীকে (৪০) মাথায় গুলি করে তুলে নিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক মাস ১১ দিনেও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ হওয়া স্বপনের। স্বপনের বাবা সিদ্দিক বেপারীর দাবি ‘স্বপন বেঁচে নেই। তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালি চরে ওই রাতের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন নিচপলাসী চরের শুকুর আলীর ছেলে জিয়াউল হক (৩৫)। তিনি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। ঘটনার পরে ২০ মে স্বপন বেপারীর বাবা সিদ্দিক বেপারী বাদী হয়ে বাঘা থানায় অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এক মাস ১১ দিনেও মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার।
স্বপনের বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার (৭ জলাই) দুপুরে তার বাবা সিদ্দিক বেপারীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় সিদ্দিক বেপারী বলেন, আমার সামনে গুলিবিদ্ধ আহত স্বপনকে ধরে নিয়ে গেছে। সে কোথায় আছে, কেমন আছে, কিভাবে আছে এ বিষয়ে জানি না। তবে ছেলে স্বপন বেঁচে নেই।
সিদ্দিক বেপারী আক্ষেপ করে বলেন, আমার দুঃখ ছেলের লাশ পেলাম না। মারা গেছে ছেলে। আমি বলেছিলাম, আমার ছেলেটার লাশটা দিয়ে যান। আমি কোনো মামলা করব না, ছেলেকে দেখে দাফন করে দেব; কিন্তু লাশ না দিয়ে তারা স্পিডবোটে করে নিয়ে চলে গেছে। এরপর থেকে ছেলের কোনো খোঁজখবর পাইনি।
তিনি বলেন, ছেলে কিছু ঋণ করেছিল। বয়স্ক মানুষ, কিভাবে কিস্তি দেব। একটি এনজিওর তিনটি কিস্তির মধ্যে, দুইটি কিস্তি শোধ হয়েছে। একটা কিস্তি শোধ হয়নি। কিস্তির লোক বলছিল স্বপন যদি মারা যায়, তাহলে একটা পরিচয়-প্রমাণ এনে দেন। তাহলে কিস্তি আর দিতে হবে না। এটা কেউ দেয় না, কবরস্থানের কমিটিও দেয়নি। এ নিয়ে আমি পাগলের মতো ঘুরছি।
তিনি আরও বলেন, আরেক জায়গা থেকে ৬০ হাজার টাকা কিস্তি নিয়েছিল। এখনও ৬টা কিস্তি বাকি আছে। প্রতি কিস্তি ৬ হাজার টাকা। স্বপন যাদের থেকে টাকা পেত, তারা স্বীকার করে না। দুইজন স্বীকার করেছে, একজনের কাছে থেকে ২০ হাজার ও আরেকজনের কাছে থেকে ২ হাজার টাকা; কিন্তু তারাও টাকা দেয়নি।
এ বিষয়ে বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক বলেন, স্বপনকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।