আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার মাওঃ আব্দুল হামিক ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা অভিযোগ থেকে রক্ষা পেতে তদন্ত সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে আকুতি জানিয়েছেন।
মাওলানা মোঃ আব্দুল হামিদ বলেন, আমি নিয়ম মেনে নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রীর কাজ করে আসছি। বিজ্ঞ আমলী আদালতে মোসাম্মাৎ কারিমা খাতুন মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে সিআর মামলায় আমাকে ২নং আসামি করে হয়রানি করছেন। যা বর্তমানে পিবিআই (চইও) তদন্ত করছেন। অথচ গত ২৩ ফেব্রুয়ারী সকাল ঠিক ৭.৩০ টায় কারিমা খাতুন স্বশরীরে আমার কার্যালয়ে এসে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে তার প্রথম স্বামী তরিকুল ইসলামকে তালাক প্রদানের জন্য তালাকনামায় স্বাক্ষর করেন এবং উক্ত তালাক কার্যক্রমটি আমার সরকারি নিকাহ ও তালাক রেজিস্টার খাতায় যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করা রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঐ একই তারিখে তিনি আদালতে গিয়ে ভুয়া তালাকনামা তৈরির মামলা ঠুকে দেন। অপরদিকে কারিমার ভাই তানজির ওরফে আকাশ এবং মামা গোলাম রসুলসহ অন্য সহযোগীরা আমাকে মাদ্রাসা ও স্কুল চলাকালীন সময়ে অপ্রস্তুত অবস্থায় পেয়ে আমাকে ভুল বুঝিয়ে ও মিথ্যা প্ররোচনা দিয়ে একটি প্রত্যয়ন পত্রে জোরপূর্বক আমার স্বাক্ষর করিয়ে নেন। শুধু তাই নয়, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জনৈক ব্যক্তি আমাকে ফোন দিয়ে নিজেকে কারিমা খাতুনের প্রথম স্বামী পরিচয় দিয়ে হুমকি দেয় যে, "আপনি আমাদের ঘর-সংসার ভেঙে দিচ্ছেন, আপনাকে দেখে নেব।" পরবর্তীতে আসল স্বামীর সাথে কথা বলে আমি জানতে পারি যে, কারিমা খাতুন পরকীয়ায় জড়িয়ে খুলনায় দ্বিতীয় বিয়ে করার পর সেখানে মামলার শিকার হয়েছেন এবং মামলা থেকে বাঁচতে রেজিস্টারভুক্ত বৈধ তালাকটি অস্বীকার করে এই ভুয়া প্রত্যয়ন তৈরির জালিয়াতি করেছেন। আমি তাৎক্ষণিকভাবে আশাশুনি থানায় ওসির নিকট লিখিত আবেদন করে সেই বিতর্কিত প্রত্যয়নটি বাতিল করি এবং থানায় সত্য প্রমাণিত হওয়ায় সেখানে কোনো প্রকার প্রভাব বিস্তার করতে না পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে কারিমা খাতুন ও তার সহযোগীরা কোর্টে এই হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। আমি সাতক্ষীরা এসপি মহোদয় এবং পিবিআই কর্মকর্তাদের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, এই হুমকি-ধমকি ও জালিয়াতির বিষয়টি বিবেচনা করে, আমার কার্যালয়ের রেজিস্টার খাতা সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক মিথ্যা ও জালিয়াতি মামলা থেকে আমাকে দ্রুত অব্যাহতি দেওয়ার আকুল আবেদন জানাচ্ছি। এব্যাপারে কারিমা খাতিনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে ভিন্ন একটি নম্বর থেকে কল ব্যাগ করে জানান, আমি কোন তালাক দেইনি। আমার স্বামী জাল স্বাক্ষর করে তালাক নামা বানিয়ে নেছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।